মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হাকালুকির জিরো পয়েন্ট



নয়নাভিরাম হাকালুকির বর্ষার সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমেছে হাকালুকির পারে। বর্ষায় হাকালুকি যেন তার সৌন্দর্য মেলে ধরে পূর্ণরূপে। তাই পর্যটকদের ও আগমন বেশি হয় এই সময়। বিশেষ করে কোন ছুটি পেলেই ভ্রমন পিপাষু পর্যটকরা পাড়ি জমান দেশের বিভিন্ন স্থানে। আগে ছিল সিলেটের জাফলাং, মাধবকুণ্ড, লালাখাল,পান্থুমাই, বিছনাকান্দী, রাতারগুল,হামাহামসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। যা পর্যটকের কাছে বেশ আকর্শনীয় হয়ে উঠেছিল। গত কয়েক বছর ধরে যোগ হয়েছে হাকালুকি জিরো পয়েন্ট, যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে।

এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা হওয়াতে পর্যটকেরা ভ্রমনের বেশ সুযোগ পেয়েছেন। ঈদের দিন থেকে পর্যটকেরা আসছেন হাকালুকির পারে , দেখছেন ভ্রমণ করছেন শুধু সিলেট এলাকার নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে উপভোগ করেন পর্যটকেরা। হাকালুকির দুরত্ব সিলেট জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৩৩ কিলো:। সেখান থেকে লোকাল বাসে চড়ে বা প্রাইভেট গাড়ী করে আসতে পারেন। তবে লোকাল বাসে আসলে আপনাকে আবার বিয়ালী বাজার নেমে একটি সিএনজি ভাড়া করে নিতে হবে। আবার যদি কেউ মৌলভীবাজার থেকে আসেন তাহলে কুশিয়ারা ব্রীজের আগে নেমে অটোভাড়া করে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য দাম ধর করে নিয়ে যাওয়া ভালো। বর্ষার সময় অবশ্য অটোওয়ালা ভাড়া একটু বেশি চায়।

শনিবার (৮) জুন হাকালুকির জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে হাকালুকির জিরো পয়েন্ট। দেশ বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী এসেছেন হাকালুকির রূপ দেখতে। তেমনি কথা হয় রাজনগর থেকে আসা আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি জানান আসতে গাড়ী ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। তার পর এখানে এসে নৌকা ভাড়া খুব চড়া বলে তিনি জানান। যদি ওই বিকেলে বেশ বৃষ্টি ছিল তার পর ও পর্যটকের কমতি ছিল না। তবে হাকালুকির সৌন্দর্য দেখে পর্যটকরা ভাড়া বা কষ্টের কথা ভুলে যান।

ঠিক এমন করে বলেছিলেন সাইফুল নামের এক পর্যটক। তিনি বলেন সৌন্দর্যের কাছে এসব কোন ব্যাপার না। তবে তিনি বলেন এখানে কিছু হোঠেল, মোটেল, কটেজ গণশৌচাগার ও নিরাপতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরী। 

এদিকে সরেজমিনে আরও দেখা যায়, হাকালুকির বর্ষার সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য কোন নিরাপত্তা কর্মী নেই। হাওরের পানিতে অনেকে  নেমে গোসল করলে ও নেই কোন সতর্কীকরণ লাল কাপড়ের সিগনাল। চোখে পড়েনি কোন ফায়ারম্যান বা বেসরকারি কোন উদ্ধারকারী সংস্থার কোন লোক কে। শুধু কিছুক্ষণ পর পর মাইকে ঘোষণা দেয় হচ্ছিল যাতে যাত্রী বেশি নিয়ে নৌকা না ছাড়ে। তবে কে শোনে কার কথা।

ওরা উপরে বসেই ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে ঘাটে বা হাওরে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেই। আর অব্যবস্থাপনা আছে – যেমন কোন নির্ধারিত ভাড়া ধার্য নেই, যে নৌকা যে রকম পারছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। জিরো পয়েন্ট ঘাট থেকে পরিবেশ টাওয়ারে একটি ইন্জিন চালিত নৌকায় চড়ে যেতে সময় লাগে মাত্র ২৫মি:, ফিরতে আরো কম সময় লাগে। সেখানে এই নৌকার ভাড়া গুনতে হয় হাজারের উপর। বড় নৌকা গুলোর ভাড়া আরো বেশি। তাই নৌকা ভাড়া নিয়ে বেশ নাখোশ পর্যটকেরা।

এ ব্যাপরে কথা হলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মুহিব উদ্দিন বাদল বলেন, আমারা এখানে সকল ধরনের ব্যাবস্থা নিব। যদিও এখানে এখন ও অনেক কাজ বাকি। ভাড়ার ব্যাপারে বলেন, ওরা মাত্র বর্ষায় দুই মাস নৌকা চালায় বাকী সময় তাদের অবসর কাটে, তাই ভাড়া একটু বেশি। তার পর ও আমরা আলাপ করে আজই ভাড়া কমিয়ে দিচ্ছি। আর বাকী সকল কাজ আমরা আগামী বর্ষার আগে করে নেব। এমনটাই বলেন তিনি।

তবে পর্যটক ও সচেতন মহল মনে করেন, যদি সব কিছু ঠিক রেখে পর্যটকদের বিনোদনের সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা যায় তাহলে হয়ত একদিন জিরো পয়েন্ট মিনি কক্রবাজারে রূপান্তরিত হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন: