মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে পাহাড়ের বুকে দৃষ্টিনন্দন লেক



ঘন ঝোপ-ঝাড়ে ভর্তি চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড়ের বেষ্টনীর মধ্যেই কমলগঞ্জে দেখা মেলে জলে পরিপূর্ণ দৃষ্টি নন্দন লেক যা অনেকেরই অজানা। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ৩ নং গেইট বাগমারা ক্যাম্প সংলগ্ন লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমিটরী পিছনেই দৃষ্টিনন্দন এ লেক। লেকটির আয়তন প্রায় ছয় (৬) একর। বন্য প্রাণীর খাবারের পানি সংকট নিরসনের জন্য মূলত দৃষ্টিনন্দন এই লেকটির উৎপত্তি। লেকটি মূলত প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি, তবে স্বল্প গভীরতা ও লেকের এক পাশ বাঁধ না থাকার কারণে লেকটি শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যেত। সেই সময় বন্যপ্রাণীর খাবারের পানি তীব্র সংকট দেখা দেয়। বন্য প্রাণীর খাবারের পানি সঙ্কট দূর করার জন্য ২০১৬ সালে বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী) আর্থিক সহযোগিতায় লেকটির খনন করা হয় এবং এক পাশে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, যাতে লেক থেকে পানি বের না হয় এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি লেকটি পরিপূর্ণ থাকে যা শুকনো মৌসুমেও বন্য প্রাণীর জন্য একমাত্র জলের উৎস হিসেবে কাজ করবে।

লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমিটরী লেকটির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পাখির অভয়ারণ্য তৈরি করার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৪ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন কর্তৃক ২০১৭ সালে প্রায় ২৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জলে পরিপূর্ণ লেকটির উপর দিয়ে এক টিলা থেকে অপর টিলায় যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাঁশের সাঁকো, যা পর্যটকদের আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্টুডেন্ট ডরমেটরির দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী মোহাম্মদ ওয়াহিদ মিয়ার তৈরি একটি বাঁশের ভেলা রয়েছে দক্ষ চালক ব্যতীত সবার জন্য ভেলাটি নিরাপদ নয়।

স্হানীয়দের দাবি লেকটির প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য যদি এখানে একটি নৌকা দেওয়া হয়, তাহলে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা নৌকা ভ্রমন করে প্রকৃতির স্বাদ উপলব্ধি করতে পারবেন। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক আবু মুসা শামসুল মোহিত চৌধুরী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন লাউয়াছড়া স্টুডেন্ট ডরমিটরী লেকের উন্নয়নের জন্য আমরা (বন বিভাগ) একটি প্রকল্প নিয়েছি। লেকটির চার পাশ দিয়ে হাঁটার জন্য একটি ট্রেইল পথ (পায়ে হাঁটার পথ) তৈরি করা হবে, সেই সাথে লেকের উপর একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানান তিনি।

পরিবেশবাদী ও সাংবাদিক রিপন দে বলেন ইকো ট্যুরিজম (পরিবেশ বান্ধব পর্যটন) আদলে লেকটি উন্নয়ন করলে যেমন পরিবেশের প্রতি প্রভাব ফেলবে না তেমনি ভ্রমণ পিপাসু প্রকৃতিপ্রেমীরাও প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, লেকের পাশে যদি হিজল প্রজাতির বৃক্ষ রোপন করা হয় তাহলে শীত মৌসুমে অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে যা পর্যটকদের কাছে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত লাভ করবে প্রকৃতির বুকে সৃষ্টি দৃষ্ট নন্দন এই লেকটি।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন: