রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জোহর ও আসরের নামাজে যে কারণে কিরাত আস্তে পড়া হয়



মুফতি তাজুল ইসলাম।। জোহর ও আসরের নামাজে নিচু আওয়াজে আর মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজে উঁচু আওয়াজে কিরাত পড়ার বিধান খুবই যুক্তিসংগত। এই বিধান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরত ও হিকমতের প্রমাণ বহন করে।

কেননা মাগরিব, এশা ও ফজরের সময় লোকেরা কাজকর্ম, কথাবার্তা ও আওয়াজ থেকে নীরব থাকে এবং এ সময় পরিবেশ নীরব ও শান্ত থাকে। তা ছাড়া এ সময় চিন্তা-ফিকিরও কম থাকে, তাই এ সময়ের কিরাত অন্তরে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। কেননা অন্তর চিন্তা-ফিকির থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে এবং কানে শব্দ না আসার কারণে অনুধাবন ও শ্রবণ করতে আগ্রহী হয়। আর রাতের বেলা কথা কান অতিক্রম করে অন্তরে গিয়ে প্রবেশ করে এবং পূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। ’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৬)

এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে মিষ্টকণ্ঠের মানুষ ও পাখির আওয়াজ দিনের তুলনায় রাতে অনেক সুন্দর এবং প্রভাবান্বিত হয়। এ জন্য এ সময় উঁচু আওয়াজের কিরাত নির্দিষ্ট হয়েছে।

আর জোহর ও আসরের নামাজে নিচু আওয়াজে কোরআন পড়ার হিকমত হলো, দিনের বেলা হাট-বাজারে ও বাড়ি-ঘরে শোরগোল থাকে, বিভিন্ন আওয়াজ ও চিন্তা-ফিকিরের কারণে অন্তর বেশি ব্যস্ত থাকে এবং কথার প্রতি মনোযোগ থাকে না। তাই এ সময় উঁচু আওয়াজে কিরাত নির্দিষ্ট হয়নি।

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে এদিকে ইঙ্গিত করে বলেন—‘নিশ্চয়ই দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। ’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ৭)

কালের কন্ঠ

 

 

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন:
error: Content is protected !!