মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনাকালে ভালো নেই মালয়েশিয়ায় প্রবাসীরা : চলছে বেঁচে থাকার লড়াই



সমগ্র বিশ্বের ন্যায় মালয়েশিয়ায়ও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১১৪ জনের জীবন কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাসে। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০০৯ জন। যার মধ্যে মধ্যে ৫৭০৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ১১৮৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

মোট আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশী আছেন ১৪৪ জন। যার মধ্যে সবাই চিকিৎসাধীন আছেন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোন বাংলাদেশী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাইনি। বলা যায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এ পর্যন্ত অনেকটা সফল দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে ১৮ মার্চ শুরু হওয়া লকডাউন বা মুভমেন্ট কন্ট্রল অর্ডার চলবে ০৯ জুন পর্যন্ত। এমতাবস্থায় কর্মহীন অবস্থায় দুই মাস ধরে প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এই কর্মহীন অবস্থায় তাদের পকেট প্রায় ফাঁকা। আবার খাবার সংকটে ভুগছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী। তাই খেয়ে না খেয়ে এই কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের।

অবশ্য মালয়েশিয়া সরকার তার দেশের নাগরিক যারা ছুটিতে আছেন তাদের প্রতি মাসে বেতন দিচ্ছে । তাই তাদের কোনো সমস্য নেই। সকল সমস্যা যেনো প্রবাসীদের। কাজ ও নাই বেতন ও নাই। তার মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রত্যেককে করোনাভাইরাসের টেস্ট করাতে হবে। এই টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার খরছ পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ রিংগিত। যেখানে খাওয়ার টাকা নাই সেখানে ৩৫০ রিংগিত ফি দিয়ে এখন প্রবাসীরা কিভাবে করোনা টেস্ট করাবেন তা ভেবে অনেকের দিশেহারা অবস্থা।

এদিকে বছর শেষে ভিসা নবায়ন করতে হবে। যদিও মালয়েশিয়া সরকার প্রবাসীদের ভিসা নবায়নের জন্য ২৫% ডিসকাউণ্ট দিয়েছে। এই সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল প্রবাসী পাবে বলে ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু কর্মহীন প্রবাসীদের এই ২৫% ডিসকাউণ্ট পেয়েও ভিসা নবায়নের বাদবাকি ৭৫% রিংগিত ফি পরিশোধ করে ভিসা নবায়ন করতে হিমশিম খেতে হবে। কারণ ভিসা নবায়নের টাকার পাশাপাশি বাসা ভাড়া, খাবার-দাবারসহ দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের ব্যয়ভার কিভাবে তারা সামাল দিবেন তা এই মুহূর্তে তাদের কাছে অজানা। অজানা থাকারই কথা! কারণ কবে তারা কাজে ফিরবেন, আর কাজে ফেরার সুযোগ আসলে কয়জনের কাজ থাকবে তা তাদের কাছে অজানা। ইতোমধ্যে আবার লকডাউনে থাকা অবস্থায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই অবৈধ হয়ে পড়েছে অনেকেই। আবার অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ, রিনিউ করতে হবে। কিন্তু লকডাউনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট রিনিউ এর কাজ হচ্ছে না।

আবার বিভিন্ন এজেন্ট ভিসা নবায়নের জন্য টাকা পাসপোর্ট নিয়ে তাদের কাছে রেখেছে কিন্তু লকডাউন থাকায় কিছুই করতে পারছেনা। আবার অনেক অবৈধদের মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে অনেক দালাল এজেন্ট টাকা পাসপোর্ট নিয়ে রেখেছে অনেক দিন ধরে। ভিসা করেও দিচ্ছেনা এমনকি পাসপোর্ট ও টাকা রিটার্ন ও দিচ্ছে না। এসব দালালদের কাছে অবৈধ প্রবাসীরা জিম্মি হয়ে আছেন। এদিকে অবৈধ প্রবাসীদের ধরপাকড় অবিরাম চলছে । এ পরিস্থিতি যেন কাটা গায়ে লবণ ছিটানোর মত অবস্থা। সব মিলিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কি একটা আতঙ্কে দিন কাটছে তা বলে বুজানো যাবে না।

এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবশ্য প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের দেয়া কিছুটা ত্রাণ সাহায্য পেয়েছিলেন। যা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তারা পান। কিন্তু সরকারের দেয়া সেই ত্রাণ ও মালয়েশিয়া কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গদের দেয়া এসব সাহায্য খুব অল্প সংখ্যাক লোকজন পেয়েছেন। লাখ লাখ প্রবাসী কোনো সুবিধা বা ত্রাণ এখনো পাননি। তাই না পাওয়াদের কর্মহীন জীবন যেনো আর চলে না। এতো কষ্টের মধ্যে থেকেও দেশের কথা, পরিবারের কথা তারা নিরন্তর ভাবছেন। কর্মহীন থাকায় সামনে ঈদে বাড়িতে টাকা না পাঠানোর বেদনা তাদেরকে পীড়া দিচ্ছে।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের স্বস্তির জীবন দিতে বাংলাদেশ সরকার যেন জোরালো ভূমিকা পালন করে সেই অনুরুধ সেখানকার লাখো ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশীর। তারা মনে করেন বাংলাদেশ সরকার যদি মালয়েশিয়া সরকারের কাছে অনুরোধ জানায়, লকডাউন অবস্থায় বৈধ ও অবৈধ প্রবাসীদের হয়রানী না করার জন্য তাহলে মালয়েশিয়া সরকার সেই অনুরুধ রাখবে। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় লকডাউন অবস্থায় তা নবায়নের সুযোগ না থাকায় প্রতিদিন পুলিশের হয়রানী থেকে তাদের নিস্তার মিলবে। এই দুর্দিনে আর কেউ পাশে থাকুক আর না থাকুক বাংলাদেশ সরকার যেন প্রবাসীদের পাশে থাকে এই বিনীত অনুরুধ মালয়েশিয়ার সকল প্রবাসীদের বাংলাদেশ সরকারের প্রতি।

 

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন: