শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডি লেকের ধারে মাটিতে পড়ে থাকা একটি

ভুবন চিলের ছানা…



ঢাকা থেকে মোছাব্বের হোসেন :: ঢাকার লালমাটিয়ার বাসিন্দা ইনাম আহমেদ। সকালে নিয়মিত হাঁটেন। ১৭ মে সকালে তিনি বের হয়েছিলেন ধানমন্ডি লেকের ধারে হাঁটতে।হাঁটার সময় হঠাৎ চোখে পড়ে মাটিতে পড়ে থাকা একটি ভুবনচিল। কাছে গিয়ে দেখেন, এটি আসলে চিলের ছানা। হয়তো আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। তাই উড়তে পারছে না। ছানাটিকে তুলে বাসায় নিয়ে আসেন ইনাম।

এর আগেও বিভিন্ন সময় প্যাঁচা, শালিক, ময়না ও কাকের ছানা কুড়িয়ে পেয়ে নিয়ে এসে পরে ছেড়ে দিয়েছেন ইনাম। এবার পেলেন চিলের ছানা।বাসায় কাজ বেড়েছে। ইনাম চিলটি বাসায় আনার পর এর বন্ধু হয়ে যায় তাঁর সাত বছরের নাতনি নয়নতারা। সে অক্সফোর্ড স্কুলে পড়ে। পরিবারের পরিচিত প্রাণিবিশেষজ্ঞ রাকিব হাসানকে ফোন দেয়ার পর রাকিবের পরামর্শ শুনে চিলের বাচ্চাকে ছোট মাছ ও মুগির মাংস খেতে দেওয়া হচ্ছে। আস্তে আস্তে থেতে শুরু করল চিলের বাচ্চাটি। তার জন্য আলাদা থাকার জায়গা করে দেওয়া হয়। খড় দিয়ে বানানো হয় বাসা।এখন চিলের ছানাটি বেশ ঝরঝরে হয়েছে।

নয়নতারা জানায়, বাচ্চাটি বেশ আদর পছন্দ করে। শুরুতে একটু কম পাত্তা দিলেও এখন নানার হাতে করে ঘুরে বেড়ায়। বাসায় কুকুরের সঙ্গে ওর ভাব, কিন্তু বিড়ালটাকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। যত্ন নেওয়ার পর থেকে চিলটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। খাবার দেওয়ার আগে শিষ দিলে চিলটি বুঝে যায়—এখন তার খাবারের সময়।

ছানাটির জন্য ছোট মাছের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট মাছ তার পছন্দ, কিন্তু মাছের মাথা খেতে আপত্তি। মাংসও খাচ্ছে মাঝেমধ্যে। সন্ধ্যা নামার পরই সে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যা থেকে সকাল ৭–৮ টা পর্যন্ত একটানা ঘুমায়।

নয়নতারা বলে, এখন চিলটি নিজেই নিজের ঘুমানোর জায়গা চেনে। ওকে ভালো রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিজে নিজে উড়তে পারলেই তাকে ছেড়ে দিয়ে আসা হবে নিজ আলোয়।এখানে সে আইসোলেশনে রয়েছে!

ইনাম বললেন, এর আগে আমরা প্যাঁচা, শালিক, ময়না ও কাকের ছানাকে রক্ষা করতে পেরেছিলাম। পরে ওদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

পাখি–বিশেষজ্ঞ শরিফ খান সব শুনে জানালেন, এটা ভুবন চিলের বাচ্চা। এখন তাদের বাচ্চা তোলার মৌসুম। আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যেতে পারে। এরা শিকারি পাখি।ভুবন চিল দীর্ঘ কাঁপা কাঁপা সুরে শিস দিয়ে ডাকে। ঢাকা শহরের হাজার হাজার ভুবলচিল আছে। এরা অনেক ওপর থেকে দেখতে পারে। সাধারণত ময়লার ভাগাড় থেকে এরা গরুর চামড়া, ভুঁড়ি, মুরগির ফেলে দেওয়া নাড়িভুড়ি খায়। অনেক সময় ইঁদুরও খেয়ে থাকে। এই বাচ্চাটি ১ মাস হলে উড়তে পারে। একে কোন পার্ক ছেড়ে দিলে সে উড়ে চলে যাবে। আর আকাশে উড়েই খুঁজে নেবে স্বজনদের।

 

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!