শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জে অবৈধ মশারিজাল, কারেণ্টজাল দিয়ে চলছে মৎস্য নিধন



জনসচেতনতার অভাবে মৎস্য সপ্তাহেও থেমে ছিল না ‘টানাজাল, কারেণ্টজাল, মশারিজাল’ প্রভৃতির ব্যবহার। আর এসব জালের অপব্যবহার করে ব্যাপক হারে বিভিন্ন জাতের পোনা মাছসহ দেশীয় মাছ মারা হচ্ছে। গত ২১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী মৎস্যসপ্তাহ পালনকালেও বালাগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে অবৈধভাবে পোনা মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে। অবশ্য বালাগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক জানিয়েছেন, মৎস্যনিধন এবং এসব অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, উপজেলার মাইজাইল, বড় চাতল, গোরাপুরসহ বিভিন্ন হাওর এবং খাল-বিলে ব্যাপকহারে ‘টানাজাল, কারেণ্টজাল, মশারিজাল’ দিয়ে মৎস্যনিধন চলছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে অবাধে টানাজাল বা মশারিজাল দিয়ে রুই, কাতলা, কালিবাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোটছোট পোনা মাছ ধরা হচ্ছে। স্থানীয় হাট-বাজারেও এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি বছর সরকারি উদ্যোগে হাওরাঞ্চলে লাখ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়া হলেও অবৈধ জালের কবলে পড়ে এসব বেঁচে থাকতে পারছে না। এসব কারণে বাজারে মাছের আকাল বিরাজ করছে। মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা হাওরে মাছ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিকসহ সচেতন মহলের অভিযোগ, যে ভাবে দেশব্যাপী ঘটা করে মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হয় তার তুলনায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা অনেক কম। প্রায় প্রতি বছর প্রশাসনের পছন্দের এবং যাতায়াত সুবিধাসম্পন্ন একই হাওরাঞ্চলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আগেই সেসব পোনা মাছ অবৈধ মশারিজাল, কারেণ্ট, বস্তাজালের ফাঁদে আটকা পড়ে। এসব জালের মাধ্যমে মৎস্য নিধন এবং শুকনো মৌসুমে জলমহাল সেচে ফেলার কারণে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ নির্মূল হয়ে পড়ছে।

পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বপন কান্তি দাস সপু, বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মালিক রুনু, হরিশ্যাম গ্রামের জমসেদ আলী প্রমুখ বলেন, কারেণ্টজাল, মশারিজালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহার করে মৎস্যনিধনের জন্য দেশে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তাদের অভিমত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে দেশে মাছের সুদিন আবার ফিরে আসতে পারে।

এ বিষয়ে আলাপকালে বালাগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নির্মল চন্দ্র বণিক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৎস্যনিধন এবং এসব অবৈধ জাল নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেণ্টজাল জব্দ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!