শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জে যুবককে ‘পৈশাচিক নির্যাতন’, এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ



বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামে ফয়েজ মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ফয়েজ মিয়া পাশ্ববর্তী দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের বশিরপুর গ্রামে বসবাসকারী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরের মৃত সাইফুল আলমের ছেলে। গত রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে আজিজপুর গ্রামের নির্যাতনকারী কামরুল মিয়া ও শরিফ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। বর্বর এ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার ফয়েজের মা দিলা বেগম বাদি হয়ে বালাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ০৫। তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০। বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী আতাউর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আজিজপুর গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমানের দুই ছেলে কামরুল মিয়া ও শরিফ মিয়া কথিত ছাগল চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্থানীয় তালতলা বাজার থেকে ফয়েজ মিয়াকে জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে টেনে নিয়ে যায়। এরপর বাড়িতে নিয়ে কথিত ছাগল চুরির সাথে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ফয়েজ মিয়াকে হাত-পা বেঁধে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ওয়্যার ও রড দিয়ে ফয়েজকে বেদড়ক মারপিট করে। শুধু তাই নয়, ফয়েজের পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষেও আঘাত করে চরম পৈশাচিক বর্বরতা দেখিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার ফয়েজের মা দিলা বেগমসহ এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন, ‘আজিজপুর গ্রামের কামরুল ও তার ভাই শরিফ ফয়েজকে ছাগল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে জঘন্য কায়দায় নির্যাতন করেছেন’। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তালতলা বশিরপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফয়েজকে ছাড়িয়ে আনতে দফায় দফায় কামরুলদের বাড়িতে গিয়েও ব্যর্থ হন। শুধু তাই নয়, দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তালতলা গ্রামের খন্দকার আব্দুর রকিবের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের মাধ্যমেও ফয়েজকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তালতলা, বশিরপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কামরুলদের আজিজপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্মরণাপন্ন হয়েও ফয়েজকে উদ্ধার করতে পারেননি।
ঘটনার দিন গত রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় নির্যাতনের পর এক পর্যায়ে ফয়েজ কাহিল হয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারের পর প্রথমে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হলেও সেখান থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন সোমবার (২৭ জুলাই) নির্যাতিত ফয়েজের মা দিলা বেগম বাদি হয়ে বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর : ০৫, তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২০। মামলায় আজিজপুর গ্রামের কামরুল মিয়া ও তার ভাই শরিফ মিয়াকে আসামী করা হয়েছে। এলাকাবাসী ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, এ মারধরের ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে আজিজপুর গ্রামের কামরুল মিয়া বশিরপুর গ্রামের (নির্যাতনের শিকার) ফয়েজ মিয়ার কাছ থেকে একটি ছাগল কিনেছিল। এবং ওই ছাগল কয়েকদিন আগে কামরুলদের বাড়ি থেকে হারিয়ে গেলে তারা ফয়েজকে সন্দেহ করে এবং বাড়িতে নিয়ে এ নির্যাতন চালায়।

এদিকে সর্বশেষ জানা গেছে, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফয়েজ মিয়াকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে, বশিরপুর, তালতলা গ্রামের লোকজন ও নির্যাতনের শিকার ফয়েজের মা দিলা বেগম অভিযোগ জানিয়েছেন, মামলার বিবাদীরা ‘চেষ্টা-তদবির’র মাধ্যমে ফয়েজকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করিয়েছে। দিলা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে ফয়েজ মিয়া হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তার অবস্থা সংকটাপন্ন। ইতোমধ্যে ডাক্তারা ফয়েজকে ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ প্রদান করেছেন। ফয়েজের প্রশ্রাবের সাথে রক্ত বের হচ্ছে বলে তার মা অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফয়েজকে নির্যাতনের পর এ ব্যাপারে মামলা না করার জন্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে।
আলাপকালে স্থানীয় তালতলা গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি খন্দকার আব্দুল বাছিত, একই গ্রামের প্রবীণ মুুরুব্বি ও সাবেক ইউপি সদস্য খন্দকার আব্দুল হাই, বশিরপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজকর্মী, সিলেটের গোয়াইনঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, বর্তমান ইউপি সদস্য খন্দকার আব্দুর রকিব, বশিরপুর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি মীর শানুর মিয়া, সামস উদ্দিন সামু, খন্দকার আলমগীর, নাসির উদ্দিন সুমন প্রমুখ ফয়েজের ওপর ‘পৈশাচিক নির্যাতন’র তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ‘বর্বর নির্যাতনের শিকার’র ফয়েজের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

এদিকে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ গাজী আতাউর রহমান এ ব্যাপারে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!