শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্যামল কান্তি সোম

বইপত্র: চাষাবাদ প্রথম সংখ্যা



আনিসুল আলম নাহিদ সম্পাদিত কৃষিভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘চাষাবাদ’ প্রথম সংখ্যা বেরিয়েছে ০১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ (১৪ এপ্রিল ২০১৮)-এ। দেড় ফর্মার ছোট্ট পরিসরে হলেও ম্যাগাজিনটিতে রয়েছে কৃষিভিত্তিক বিচিত্র তথ্যাদিসহ দেশ-বিদেশের কৃষির খবরাখবর ও উৎসাহ-উদ্দীপনামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছড়া-কবিতা। এ ছাড়াও আছে বাংলাদেশের কৃষির অতীত, বর্তমান নিয়ে আলোচনা ও ভবিষ্যতের আশা-প্রত্যাশার কল্পচিত্র।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বাংলাদেশের শতকরা আশিজন লোক কৃষি অথবা কৃষি নির্ভর উপার্জনের উপর নির্ভরশীল। এদেশের জাতীয় অর্থনীতির শতকরা ২০ ভাগ আসে এই কৃষি থেকে। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আমি বলব যে, আনিসুল আলম নাহিদ এই ম্যাগাজিনটি প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত প্রকাশ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে একটি যথোপযুক্ত কাজের গুরু দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। যা আমাদের দেশীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সর্বোপরি সার্বিক প্রয়োজনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের সকলেরই এটুকু মনে রাখতে হবে যে, দেশ ও বিশ্ব যতই শিল্প  প্রযুক্তিতে আকাশচুম্বী সাফল্য অর্জন করুক না কেন কৃষির গুরুত্ব দিন দিন বাড়বে বৈ কোন দিনই কমবে না। কারণ আমাদের মৌলিক চাহিদার অধিকাংশই আসে কৃষি থেকে। তাই কৃষিকে অবহেলা নয় বরং সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় উন্নতির বিষয়ে ভাবতে হবে। সুতরাং এদিক দিয়ে বিবেচনা করে আমি বলব যে, ‘চাষাবাদ’ নামক কৃষির ছোট কাগজটি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে আমাদের কৃষিতে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে (যেখানে লোকজন কৃষির প্রতি খুব একটা আগ্রহী নয়) বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য ‘চাষাবাদ’ সম্পাদক আনিসুল আলম নাহিদকে আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন।

এখানে আনিসুল আলম নাহিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়াকে আমি অযৌক্তিক মনে করছি না। আব্দুর রশীদ লুলু সিলেটের লেখালেখি অঙ্গনের একটি অতি পরিচিতি ও প্রিয় নাম। তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে সেই ২০০৪ সাল থেকে বিরতিহীনভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছেন শিকড় সন্ধানী ছোট কাগজ ‘আনোয়ারা’। তাঁরই সুযোগ্য ও একমাত্র সন্তান আনিসুল আলম নাহিদ এবার হাতে নিয়েছেন ‘চাষাবাদ’ উপহার দেয়ার গুরুদায়িত্ব। সুতরাং পিতার পরিচয় বিবেচনায় আমরা এটুকু আশ্বস্থ থাকতে পারি যে, ‘চাষাবাদ’ও আমরা নিয়মিত হাতে পাব এবং এর ফলে আমরা কৃষিভিত্তিক নতুন নতুন তত্ত্ব ও তথ্য সম্বন্ধে অবগত হব। কৃষিপ্রেমী ও কৃষিতে যারা নিয়োজিত আছেন এতে তাঁরা উপকৃত হবেন।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষি ও কৃষকের প্রতি অনুরাগ থেকে প্রকাশিত ‘চাষাবাদ’-এ সংখ্যায় অনেকগুলো লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেখক হলেন- ড. এম. মনজুরুল আলম মন্ডল, আফতাব চৌধুরী, শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ, আমিনুল ইসলাম সফর, আব্দুল হালীম খাঁ, শাহাব উদ্দিন শাহীন, সাইফুল ইসলাম বেগ, মো. তাহির আলী মাস্টার, আব্দুর রশীদ লুলু ও মেজু আহমেদ খান প্রমুখ। ‘চাই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী’ শিরোনামের সম্পাদকীয় সময়োপযোগী।

আনোয়ারা ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত ‘চাষাবাদ’ এর মানানসই প্রচ্ছদ করেছেন মো. মতিউর রহমান। সম্পাদক ও প্রকাশক: আনিসুল আলম নাহিদ। যোগাযোগ ও লেখা পাঠাবার ঠিকানা- আনিসুল আলম নাহিদ, সম্পাদক- চাষাবাদ, আনোয়ারা হোমিও হল, যোবায়েদা ভিলা, দেওয়ান বাজার, ডাক- গহরপুর-৩১২৮, বালাগঞ্জ, সিলেট, মোবা: ০১৭২৮-০৭৩৮৫২। মূল্য বিশ টাকা। এখানে আরও একটি আনন্দের বিষয় হচ্ছে যে, সম্পাদক সবার কাছে লেখা আহবান করেছেন। যে কেউ কৃষি বিষয়ক যে কোন লেখা উক্ত ঠিকানায় পাঠিয়ে সম্পাদককে সাহায্য করতে পারেন এবং কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

আমার জানামতে সিলেট থেকে শুধুমাত্র কৃষিভিত্তিক কাগজ এর আগে কখনও প্রকাশ হয়নি। সুতরাং এদিক দিয়ে ‘চাষাবাদ’ ও এর সম্পাদক আনিসুল আলম নাহিদ আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। আমি আশা করি, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ‘চাষাবাদ’ আত্ম প্রকাশ করেছে, খুব সীমিত সময়ের মধ্যে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাবে। এই আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি ‘চাষাবাদে’র উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

লেখক: কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!