বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ব্রেক্সিট সংকটে যুক্তরাজ্যে উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাস বৃদ্ধির আশঙ্কা



ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ছিন্ন করার ইস্যুতে (ব্রেক্সিট) যে সংকট চলমান রয়েছে, তার কারণে দেশটিতে উগ্র ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৯ মার্চ ব্রেক্সিটের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে টানাপোড়েন ও অস্থিরতা চলছে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান নিল বসু জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে উগ্র ডানপন্থার উত্থান ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ অভিযান বিষয়ক এই প্রধান সহকারী কমিশনার বলেছেন, এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য না থাকলেও তাদের আশঙ্কা, ব্রেক্সিট সংকটে সেখানে সম্প্রদায়গত বিভেদ বাড়বে।

২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন থেরেসা। তবে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে বার বারই হোঁচট খেয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। দলের অভ্যন্তরে এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনমতেই এ নিয়ে সমঝোতা হচ্ছে না। ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্বিমতকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছেন দুই দুইজন ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী। অন্য মন্ত্রণালয়েরও কয়েকজন সরে দাঁড়িয়েছেন। পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনও। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ বিরোধীরা চাইছেন গণভোট।

গত ১৫ জানুয়ারি মে’র সেই ব্রেক্সিট খসড়া পরিকল্পনা পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে কোন রকমে (মাত্র ১৯ ভোটে) টিকে যান থেরেসা। এতে ‘সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্রেক্সিট পরিকল্পনা’ নিয়ে ইউরোপকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ আসে তার হাতে। সোমবার (২১ জানুয়ারি) প্ল্যান বি নামের সংশোধিত সে প্রস্তাব উত্থাপন করেন থেরেসা মে। সংশোধিত এ প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে ২৯ জানুয়ারি।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান নিল বসু বলেন, ‘আমরা গণভোটের পর ঘৃণাবাদী অপরাধ বাড়তে দেখেছি যা কমানো যায়নি। তাই এখন এমন একটা পরিবেশে সাধারণ মানুষকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে (র‍্যাডিকালাইজড)’। তিনি বলেন, ‘তারা জনগণকে যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ব্যাপারে অভিযোগের আহ্বান জানাচ্ছেন। ’

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো বলছে যুক্তরাজ্যে ইসলামবিদ্বেষী হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০১৮ সালের জুনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ম্যানচেস্টার ও লন্ডন ব্রিজে হামলার পর থেকে যুক্তরাজ্যের এ দুটি শহরে মুসলিমবিদ্বেষী অপরাধের হার বেড়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, ইসলামবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ৩৪৩টি ঘটনা, ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ১,১০৯টি ঘটনা এবং এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ১,২৬০টি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান ও বিশেষ অভিযান বিষয়ক প্রধান সহকারী কমিশনার নিল বসু জানিয়েছেন এই বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই। তবে সম্প্রদায়গত বিভেদ বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো… এর পরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি বাড়তে পারে এবং তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে পারে’।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!