‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’: ইসরায়েল নিয়ে আতঙ্কে নিজ দেশের ইহুদিরাও

গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে সারা বিশ্বের মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও হামলা বন্ধের দাবিতে প্রতিদিন চলছে আন্দোলন। এমন পরিস্থিতিতে ইহুদি ধর্মীয় ন্যায়শাস্ত্র তালমুদ-এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা ইসরায়েলিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ভবিষ্যদ্বাণীটি ‘লা’নাতুল আকদিস সামিন’ বা ‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’ নামে পরিচিত। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ইহুদি রাষ্ট্র আট দশকের বেশি টিকে থাকতে পারবে না—ধ্বংস হবে নিজেরাই নিজেদের কোন্দলে। আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ মে। সেই অনুযায়ী ২০২৮ সালে পূর্ণ হবে ৮০ বছর, অর্থাৎ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হলে ইসরায়েলের হাতে সময় আছে মাত্র দুই-তিন বছর।

ইসরায়েলের আগেও বিভিন্ন সময়ে ছোট-বড় ইহুদি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবে কিং ডেভিড ও হাসমোনিয়ান রাজত্ব ছাড়া কোনো রাজ্যই টেকেনি ৮০ বছরের বেশি। ওই দুই রাজত্বও ৮০ বছরের মাথায় বিভক্ত হয়ে যায়।

গাজায় চলমান নৃশংসতার মধ্যেই এই ভবিষ্যদ্বাণী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ইসরায়েলের ইহুদিদের বড় একটি অংশ এখন নিজেদের মধ্যে সিরিয়াস আলোচনা করছেন, কীভাবে দেশ ছাড়বেন বা বিপদের সময় কোথায় আশ্রয় নেবেন। অনেকেই একে প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ বা ঈশ্বরের (আল্লাহর) পক্ষ থেকে নেমে আসা অমোঘ নিয়তি হিসেবে দেখছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল রাষ্ট্র নিজেকে রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা, লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেনসহ নানা স্থানে ইসরায়েলের আগ্রাসী আচরণের পেছনে রয়েছে নিজ অস্তিত্ব বিলুপ্তির ভয়। এমনকি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক-ও বছর দুই আগে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

‘অষ্টম দশকের অভিশাপ’ নিয়ে ইসরায়েলের ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে চলছে আলোচনা ও বিতর্ক।

শেয়ার করুন: