তুরস্কে ছুটিতে গিয়ে ব্রিটিশ নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্তে হৃৎপিণ্ড নিখোঁজ

তুরস্কে ছুটি কাটাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে বেথ মার্টিন নামের এক ব্রিটিশ নারীর। পরিবার দাবি করেছে, ময়নাতদন্তে তার দেহে হৃৎপিণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তুর্কি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও পরিচালনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার (২৬ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ শহরের বাসিন্দা বেথ মার্টিন তার স্বামী লুক মার্টিন ও দুই সন্তান এলুয়িস (৮) এবং টমি (৫)-কে নিয়ে ছুটি কাটাতে ২৭ এপ্রিল তুরস্কে যান। তবে বিমানে উঠার পরই তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে এটি খাবারে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তুরস্কে পৌঁছানোর পর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল ইস্তানবুলের মারমারা ইউনিভার্সিটি পেনডিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বহু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এরপর মৃত্যুর পর তার মরদেহ ব্রিটেনে পাঠানো হলে, ব্রিটিশ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ময়নাতদন্তে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেন। তারা জানান, বেথ মার্টিনের দেহে কোনো হৃৎপিণ্ড ছিল না।

স্বামী লুক মার্টিন অভিযোগ করেন, তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাকে প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে নিয়ে যায় এবং হাসপাতালে ভ্যানে বসিয়ে সশস্ত্র পুলিশের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি বলেন, “আমাকে বারবার দোষী হিসেবে চাপ দেওয়া হয়, এমনকি ধারণা করা হয় আমি বিষ খাইয়ে তাকে হত্যা করেছি।”

পরিবারের দাবি, বেথ মার্টিনের অ্যালার্জি থাকা সত্ত্বেও তাকে হয়তো পেনিসিলিন দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে তার শরীরে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। তারা আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে তাকে জোরপূর্বক চেপে ধরা হয় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে তার শরীরে সূচ ও যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে তুর্কি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মৃত্যুর সময় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং তারা হৃৎপিণ্ড অপসারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। সত্য উদঘাটনে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ কোরোনাররা। তাদের মতে, সব রিপোর্ট ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

শেয়ার করুন: