
ভারতের দিল্লি, আসাম, ওডিশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রসহ একাধিক বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাজ্যজুড়ে মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। মূলত পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরই বেশি করে টার্গেট করে এই হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে।
বিজেপি অবশ্য বিষয়টিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল বলেই অভিহিত করছে। দলটির নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মমতা যখনই বিপদে পড়েন তখনই বাঙালি-বাঙালি মন্ত্র জপ করেন। ভোটে জেতার জন্য তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের নাগরিক বানাতে চান এবং বাংলার জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা করেন।”
তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও। প্রতিবাদে সামিল হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস, সিপিএম এবং সিপিআই (এমএল)।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। ১৭ জুলাই (বুধবার) কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হবে ধর্মতলায়। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবার বেলা ২টায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই প্রতিবাদ মহামিছিলে যোগ দেবেন।
এই কর্মসূচির সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে এক জনসভায় যোগদানের কথা রয়েছে। তার আগেই তৃণমূলের এই প্রতিবাদ বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার কৌশল বলেই মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে কংগ্রেস নেতা ও সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্য সরকার যেন একটি ‘পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ গঠন করে তাদের সমস্যার সমাধান করে।
বামপন্থী দল সিপিআই (এমএল) লিবারেশনও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে। দলটি জানিয়েছে, ১৬ জুলাই তারা কলকাতার ওডিশা ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করবে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানাবে।
বর্তমানে ভারতের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১৫টি রাজ্য সরাসরি বিজেপি শাসিত, আর ৬টি রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় রয়েছে। কংগ্রেস শাসন করছে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও হিমাচল প্রদেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং বামদের নেতৃত্বে সিপিএম জোট শাসন করছে কেরালা। বাকি রাজ্যগুলোয় শাসনে রয়েছে স্থানীয় ছোট দল বা জোট।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, বিজেপি তার হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিস্তার ঘটাতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বিতাড়নের চেষ্টা করছে। আসামসহ একাধিক রাজ্যে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি তাদের।