বালাগঞ্জ প্রতিদিন-এর প্রধান সম্পাদককে খোলা চিঠি।। আব্দুর রশীদ লুলু

প্রিয় সম্পাদক, ধর্ম, হোমিও, কৃষি ও লেখালেখি নিয়ে খুব ব্যস্ত এই সময়েও নানা কারণে আপনাকে মনে পড়ছে। অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম সাত সাগরের ওপারে থেকেও আপনি আমাকে উপলব্ধি করতে পারছেন এবং আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টারের কাজে নেপথ্যে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। যেখানে কাছের অনেকেই দূরে সরে যাচ্ছে, আমার কর্মযজ্ঞ অবলোকন করে। অনেকে আবার বিভিন্ন কৌশলে আমাকে কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে আমি অবশ্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করি আর তাঁর সাহায্য চাই এবং কাজে গতি ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। এ রকম সময়ে অন্যরকমভাবে আপনি আমার পাশে থাকায় সাহস ও আনন্দবোধ করি। আপনাকে তাই অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টারের প্রধান ৭ প্রতিষ্ঠান- ০১. আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ (১৯৯১); ০২. রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার (২০০৭); ০৩. মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় (২০১২); ০৪. আনোয়ারা ফাউন্ডেশন (২০১৪); ০৫. আনোয়ারা অ্যাগ্রো ভিশন (২০২০); ০৬. আল কুরআন শিক্ষা ও চর্চা কেন্দ্র (২০২৩); এবং ০৭. মরহুম আব্দুল মালিক কৃষি কল্যাণ কেন্দ্র (২০২৪) আমার সারা জীবনের স্বপ্ন, পড়াশোনা ও চর্চার ফল। যদিও এগুলো অনেক অগোছালো। ভুলে ভুলে আমি অনেক পেছনে পড়ে গেছি। তবে এখন আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রধান ৭টি প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু গুছিয়ে এনে আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টারকে একটা সুন্দর রূপ দেয়া যাবে- ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় সম্পাদক, মূলত: আমার আগ্রহ ও চর্চার প্রধান ৩ বিষয়- ০১. আল কুরআন ও হযরত মুহাম্মদ (সা.); ০২. হোমিওপ্যাথি ও স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (রহ.) এবং ০৩. কৃষি ও কৃষক অর্থাৎ ধর্ম, হোমিও এবং কৃষি। মানব ও প্রকৃতি তথা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে এসব নিয়েই আমি অবশিষ্ট জীবন কাটিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে এসব নিয়েই প্রধানত আমার লেখালেখিও। এসবে সারা জীবন আমি একজন কর্মী হয়ে থাকতে চাই। কাজ করতে করতে অনেক সময় কর্মী রবীন্দ্রনাথ আমাকে আপ্লুত করেন। ভাবতে আশ্চর্য্য লাগে রবীন্দ্রনাথ এক জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কত কাজ করে গেছেন! তবে নিঃসন্দেহে আল কুরআন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এখন আমার যাবতীয় কাজ ও ধ্যান-ধারণার কেন্দ্রবিন্দু। হায়! আরো আগে থেকে কেন আল কুরআন ও আল হাদিসের মর্মবাণী তথা আলোর ঝলক এমন করে উপলব্ধি করতে পারিনি।

প্রিয় সম্পাদক শেষ করার আগে আবারো বলি, আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টার আমার সংগ্রাম ও সাধনা ক্ষেত্র। আনোয়ারা কমপ্লেক্স-লুলু সেন্টার এর প্রতিষ্ঠান ও কাজসমূহ তথা ধর্ম, হোমিও, কৃষি ও লেখালেখি আমার আনন্দের খনিও। ধর্মে (আল কুরআন ও আল হাদিসে) তো দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত। আর আমার দীর্ঘদিনের স্টাডি এবং প্রয়োগ অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি মানব কল্যাণে আল্লাহর এক বিশেষ দান। বিজ্ঞান ও কলার সমন্বয়ে সত্যি চমৎকার এক চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথি। এ ছাড়া বিশ্ব জুড়ে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি ও কৃষকের কথাতো বলে শেষ করার নয়। লেখালেখির তৌফিক তো আল্লাহর এক বিশেষ দান। এসব নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি ধন্য এবং আল্লাহর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ।

প্রিয় সম্পাদক, বালাগঞ্জ প্রতিদিন বিভিন্নভাবে আমার স্বপ্ন, আমার কাজ, আমার ধ্যান-ধারণা ক্রমাগত মেলে ধরছে। এ জন্য আমি বালাগঞ্জ প্রতিদিন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করছি, আমার প্রতি আপনার এবং বালাগঞ্জ প্রতিদিনের এই উদারতা ও আন্তরিক সহযোগিতা আজীবন অব্যাহত থাকবে।

আব্দুর রশীদ লুলু: ইসলাম ধর্ম, হোমিওপ্যাথি ও কৃষি বিষয়ক লেখক ও গবেষক।

শেয়ার করুন: