সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ইতিহাস গড়ে এবার অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)।
ভিপি ও জিএস পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা—সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার সুযোগ পান। এই দুই বডিতে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি দাবি-দাওয়া উত্থাপন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা বা শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেখানেও তারা প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ পান।
এছাড়া সমাবর্তনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভিপি ও জিএস প্রতিনিধিত্ব করেন। নীতিনির্ধারণী সভা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকে। এমনকি সিলেকশন বোর্ডে—যেখানে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ বা অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়—সেখানেও তারা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকেন।
তবে এসব দায়িত্ব পালনের জন্য ভিপি ও জিএস মাসিক কোনো বেতন-ভাতা পান না। কেবল সিনেট বা সিন্ডিকেটের বৈঠকে অংশ নিলে নির্দিষ্ট ভাতা দেওয়া হয়। আবার কোনো বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে তার জন্য সম্মানী প্রদান করতে পারে।
এ ছাড়া ভিপি ও জিএসকে এক বছরের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এককালীন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ মূলত চা-নাস্তা ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। সর্বমোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়—যার মধ্যে ভিপি পান ৫ লাখ এবং জিএস পান ৫ লাখ টাকা।
