বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

বাংলাদেশে আগামী বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘনত্ব ও তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

গতকাল সোমবার সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা কৃষিকাজ, মাছ ধরা বা অন্যান্য বাইরের কাজে নিযুক্ত, তারা বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে থাকেন। এসব এলাকায় সতর্কতা ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

ড. মান্নান বলেন, চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বজ্রপাতজনিত দুর্যোগের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতিমধ্যে গত রোববার দেশের চারটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।

তার মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও বিজলি চমকানোর হার আরও বাড়বে। আগে যেসব অঞ্চলে বজ্রপাত কম দেখা যেত, এখন সেখানে ঘন ঘন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিই এর অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, “বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বজ্রপাতের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রাক-বর্ষা মৌসুমে ‘কনভেক্টিভ অ্যাভেইলেবল পটেনশিয়াল এনার্জি’ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বজ্রপাত বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।”

এছাড়া, আঞ্চলিকভাবে বায়ুদূষণ ও নিম্নমানের বায়ুর কারণেও বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর গড়ে ৩০০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেট জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বছরে প্রায় ১২০টি বজ্রপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরাসরি মাটিতে আঘাত হানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই পর্যাপ্ত সতর্কতা ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি আরও বেড়ে যেতে পারে।

শেয়ার করুন: