
অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন”-এর প্রথম শহিদ ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের অগ্রসেনানী আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সংগঠনের উদ্যোগে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডনের ওয়েস্টফেল্ড ব্লাড ডোনার সেন্টারে রক্তদান এবং হ্যাকনি টাউন হলে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র ‘You Failed to Call — আবরার ফাহাদ’ প্রদর্শিত হয়।
সভায় অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলন-এর আহ্বায়ক হাসনাত আরিয়ান খান বলেন, শহিদ আবরার ফাহাদ দেশপ্রেম, ন্যায্য দাবি ও ন্যায়বোধের প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ জাতির চেতনাকে জাগ্রত করেছে।
তিনি আবরারের পরিবারকে গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। বলেন, ২০১৯ সালে আবরারের শাহাদাতের পর থেকে আমাদের বহু কর্মী নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর এবারই প্রথম সারা দেশে নির্ভয়ে দিবসটি পালন সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
আরিয়ান খান আরও বলেন, “আবরারের শাহাদাত দিবসকে সরকার জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে— আমরা একে স্বাগত জানাই।” তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আর কোনো শিক্ষার্থী যেন আবরারের মতো প্রাণ না হারায়।
তিনি আগ্রাসনমুক্ত সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বলেন, “আমাদের ন্যায্য দাবি ও সত্যের পথে অবিচল থাকতে হবে।
অখণ্ড বাংলাদেশ আন্দোলনের ৬ দফা দাবি
১।সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেজুভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করতে হবে।
২। ৭ অক্টোবরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে “শহিদ আবরার ফাহাদ দিবস” ঘোষণা এবং ফেনী নদীর নাম পরিবর্তন করে “শহিদ আবরার ফাহাদ নদী” রাখতে হবে।
৩। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে।
৪।রোহিঙ্গাদের বাঙালি স্বীকৃতি দিয়ে আরাকানকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
৫।সীমান্তে ফুল ফোর্স আর্মি মোতায়েন, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত ও আধুনিক এয়ারবেস গড়ে তুলতে হবে।
৬।ভারতের সঙ্গে সব সামরিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি প্রকাশ করে অন্যায্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।