ব্রিকলেনের ট্রুম্যান এস্টেটস উন্নয়ন পরিকল্পনা বাতিলের দাবি লন্ডনে সেইভ ব্রিকলেন ক্যাম্পেইনের সংবাদ সম্মেলন

 ব্রিকলেনের ট্রুম্যান এস্টেটসে প্রস্তাবিত বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অধিকারকর্মী ও বাসিন্দারা। স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিডের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয় পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডের হাসন রাজা সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

শুক্রবার  (১৪ নভেম্বর ) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাবেক কাউন্সিলর ও সেইভ ব্রিকলেন ক্যাম্পেইনের নেতৃত্বদানকারী পুরু মিয়া। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দা হাসনাত চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শর্ডিচ টেনেন্ট অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান জনাথন মৌলবেরি, স্পিটালফিল্ডস ট্রাস্টের চেয়ারম্যান চার্লস গ্লেডহিল, হাউজিং আর্কিটেক্ট জন ব্রেল, বেঙ্গলি ইস্ট এন্ড হেরিটেজ সোসাইটির সদস্য সায়েফ ওসমানী, টাওয়ার হ্যামলেটস কমিউনিটি কোয়ালিশনের ট্রাস্টি আব্দুস শাকুর খালিসাদার, চিকসেন্ড এস্টেট রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান দেবা মালিক এবং সাবেক টাউন প্ল্যানার অ্যালেক পর্শো।

পাবলিক ইনকোয়ারি মাঝপথে বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ট্রুম্যান এস্টেটসে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের মতামত জানতে ১২ দিনের ‘পাবলিক ইনকোয়ারি’ চলছিল। ১৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এই ইনকোয়ারি ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী স্টিভ রিড মাঝপথে হস্তক্ষেপ করে প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।

ব্রাডি আর্টস সেন্টারে তিন সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত জন শুনানিতে ইন্সপেক্টর পল গ্রিফিথসের কাছে শতাধিক মানুষ ট্রুম্যান এস্টেটে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে জোরালো আপত্তি জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ—এ স্থানে শতাধিক আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ছয়টি সোশ্যাল হাউজিং ইউনিট রেখে বড় ডাটা সেন্টার, রিটেইল ইউনিট ও অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে, যা কমিউনিটির প্রয়োজনকে অবহেলা করে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটি বাদ পড়েছেন—গবেষণায় প্রমাণ

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানজিল শফিক এবং ইউসিএলের গবেষক সাইফ ওসমানীর পরিচালিত একটি ওয়ার্কশপে দেখা যায়—৯০ শতাংশেরও বেশি বাসিন্দা মনে করেন, ডেভেলপারদের পরামর্শ প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাইফ ওসমানী জানান, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কনসালটেশন পেপারের ভুল বাংলা অনুবাদ বিতরণ করেছিল, যার ফলে অনেক বাংলাদেশি বাসিন্দা ভুল তথ্য পেয়েছেন। তিনি এটিকে “স্পষ্ট পরোক্ষ বৈষম্য” বলে উল্লেখ করেন।

বৈষম্যের অভিযোগ, পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান

সাইফ ওসমানী স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে ম্যাকফারসন নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন—যদি কোনো কমিউনিটি কোনো ঘটনার মধ্যে বৈষম্য দেখেন, তবে সেটিকে বৈষম্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রুম্যান ব্রুয়ারির উন্নয়ন পরিকল্পনা বাতিল করা জরুরি।
তিনি বলেন, “ইনকোয়ারিতে উপস্থাপিত তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণ করে—এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কমিউনিটিকে বঞ্চিত করার ধারাবাহিক চেষ্টা হয়েছে। ব্রিকলেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে এখানকার মানুষের মতামতের উপর, তাদের বিপক্ষে গিয়ে নয়।”

বাংলাদেশি কমিউনিটির মতামত উপেক্ষিত: দেবা মালিক

স্পিটালফিল্ডস বাংলা টাউন ফোরামের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেবা মালিক বলেন—ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি ও কর্মজীবী মানুষের মতামতকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনাকে পরোক্ষ বৈষম্য হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান।

সভায় বক্তারা জানান—ব্রিকলেনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় বিতর্কিত এই উন্নয়ন পরিকল্পনা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন: