টাওয়ার হ্যামলেটসে চালু হলো ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস বরোতে শিশু ও তরুণদের জন্য কমিউনিটি ভাষা শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলের গ্রোসার’স উইংয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরোর এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র ও শিক্ষা, যুব ও আজীবন শিক্ষাবিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদার। এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটির অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের নিবন্ধন, চা-কফি ও পারস্পরিক পরিচয়ের মাধ্যমে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। পরে ওয়াইসিএল সার্ভিসের পরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় শিক্ষাবিদ ড. বেকি উইনস্ট্যানলি ঐতিহ্যবাহী ভাষা সংরক্ষণ ও চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ওয়াইসিএল সার্ভিসের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অভিভাবক তাহমিনা খানম বলেন, ছোটবেলায় বাংলাদেশে বাংলা শেখার সুযোগ পেলেও যুক্তরাজ্যে বসবাসের কারণে নিজের সন্তানদের সে সুযোগ দিতে পারছিলেন না। নতুন এই সার্ভিস চালুর পর তার সন্তানরা বাংলায় কথা বলতে শুরু করেছে, যা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

কাউন্সিলের ডিরেক্টর গুলাম হুসেইন ভাষা শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ভিসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন,
টাওয়ার হ্যামলেটস একটি বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক এলাকা। একাধিক ভাষায় দক্ষ শিশুরা শিক্ষায় ভালো করে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং ভবিষ্যতে আরও সফল হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে, যাতে শিশুরা ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব কমিউনিটির ভাষাও শিখতে পারে।

ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার বলেন, বাজেট সংকোচনের কারণে একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ভাষার ক্লাস পুনরায় চালু হওয়ায় শিশু ও তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি ভাষা মানুষের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে এবং সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।

অনুষ্ঠানে বহুভাষিক দক্ষতার উপকারিতা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। শেষ পর্বে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ তৈরি করে। আরবি ও বাংলা ছড়া-গান, বাংলা কবিতা আবৃত্তি, সোমালি গান এবং চাইনিজ লায়ন ডান্সে অতিথিরা মুগ্ধ হন।

চাইনিজ ভাষার শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং বলেন, শিশুরা যখন নিজ নিজ ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্লাসে আসে, তখন শেখার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ছয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাইমুনা জানায়, সে এখন অ-আ পড়তে পারে—এটাই তার জন্য বড় আনন্দ।

বর্তমানে ওয়াইসিএল সার্ভিসের আওতায় বরোর আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি ভাষায় সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। স্কুলের বাইরের সময় ও সপ্তাহান্তে পরিচালিত এসব ক্লাস শিশুদের ভাষাশিক্ষার পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে আরও স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষায় জিসিএসই ও এ-লেভেল কোর্স চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। প্রাইমারি স্তর শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সার্টিফিকেট প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই সার্ভিসটি টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসকারী, বরোর স্কুলে অধ্যয়নরত অথবা যাদের অভিভাবক টাওয়ার হ্যামলেটসে কর্মরত—সব পরিবারের শিশুদের জন্য উন্মুক্ত।

শেয়ার করুন: