
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সুনাম রক্ষায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ভুয়া ও জাল সনদ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএ’র এটি ছিল দ্বিতীয় গভর্নিং বডি সভা। এর আগে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এনএসডিএ একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলেছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভুয়া প্রশিক্ষণ সনদ ও প্রতারণার কারণে কর্মীদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাকরিদাতাদের আস্থা নষ্ট হলে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সনদ জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে নিয়োগদাতারা যেন বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিন্ন মানের সনদ চালুর যে উদ্যোগ এনএসডিএ নিয়েছে, তা জালিয়াতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণরা সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় আগের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরিতে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুমোদন করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে উদীয়মান খাতে দক্ষতার ঘাটতি বিশ্লেষণ, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে এনএসডিএ’র কারিকুলাম ও দক্ষতা মানদণ্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির মাধ্যমে জাতীয় সনদের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি প্রদান বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।