বাঁশের সাঁকোই ভরসা: বালাগঞ্জের টলাখালি নদীতে জরুরি ভিত্তিতে সেতুর দাবি

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা-এর অবহেলিত পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত টলাখালি নদীর ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুসহ শত শত মানুষ এ সাঁকো পার হয়ে চলাচল করছেন। ফলে দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে মানুষজন চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে শিশু, নারী এবং গর্ভবতী প্রসূতি নারীদের জন্য এ পথটি অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই বিপর্যয় ঘটে যায়। শুকনো মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করেন, আর বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা।
এদিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) নতুন বর নিয়ে পারাপারের সময় বরযাত্রীদের মধ্যেও এ সাঁকো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। বরযাত্রী হিসেবে উপস্থিত ইলাশপুর গ্রাম-এর বাসিন্দা সানু মিয়া বলেন, আমরা আর আশ্বাসবাণী শুনতে চাই না। বছরের পর বছর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
তিনি সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিকের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার জন্য জোর দাবি জানান।
স্থানীয় শ্রীনাথপুর গ্রাম-এর বাসিন্দা দবির হুসাইন বলেন, আমরা অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে সীমাহীন কষ্টে জীবনযাপন করছি। রাস্তাঘাট ও সেতু না থাকায় গাড়ি চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই জীবন চলে যায়।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, এলাকায় মসজিদ ও মক্তবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের দাবি জানান তিনি।
শ্রীনাথপুর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মো. তফুর আলী বলেন, আমাদের রাস্তাঘাটের সমস্যার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে। অনেক টিউবওয়েলে এখন আর পানি পাওয়া যায় না। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাতার প্রবাসী তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন অনেকটাই অবহেলিত। এখানে ভালো রাস্তা নেই, ব্রিজ নেই—মানুষকে নানা কষ্টের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি কামাল আহমদ বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি বিশেষ করে টলাখালি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এটি নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের মতে, টলাখালি নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত টলাখালি নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

শেয়ার করুন: