আপনার কত টাকা থাকলে এ বছর ফিতরা ওয়াজিব? জেনে নিন

সাদাকাতুল ফিতর দুটি আরবি শব্দ—‘সাদাকা’ ও ‘ফিতর’—এর সমন্বয়ে গঠিত। ‘সাদাকা’ শব্দের অর্থ দান এবং ‘ফিতর’ অর্থ রোজা ভঙ্গ করা বা উন্মুক্ত হওয়া। পবিত্র রমজান মাসে এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের দিনে মুসলমানরা রোজা ভঙ্গ করেন। এ উপলক্ষে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে যে দান করা হয়, তাকেই সাদাকাতুল ফিতর বলা হয়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়ালের ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য সামগ্রীর বাইরে যেসব মুসলিম নর-নারী এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

ফিতরার নেসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য ছাড়াও বসবাসের প্রয়োজন নেই এমন জমি, অতিরিক্ত বাড়ি কিংবা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্যও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়। এসব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক হয়।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিবারে ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ সন্তান বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পদ থাকলে তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবক ফিতরা আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার: ২/৩৫৯)

চলতি বছর ১৪৪৭ হিজরি বা ২০২৬ সালে ফিতরার নেসাব নির্ধারণ করেছে রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার দারুল ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির ফতোয়া বিভাগ জানায়, ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য বিবেচনায় এ বছর জাকাত ও ফিতরার নেসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয়, কোনো মুসলিমের কাছে যদি পূর্ণ এক বছর ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা থাকে, তবে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। একইভাবে ঈদুল ফিতরের দিন সকালে এ পরিমাণ সম্পদ বা নগদ অর্থ থাকলেও তাকে ফিতরা আদায় করতে হবে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ঘোষিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী স্বর্ণালংকারের জাকাত হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়—২২ ক্যারেট স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩০ টাকা। এসব মূল্যের ভিত্তিতে ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে নির্ধারিত জাকাতযোগ্য মূল্যের ওপর মোট স্বর্ণমূল্যের ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে জাকাত দিতে হবে।

অন্যদিকে সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের দামের ভিত্তিতে। সে অনুযায়ী কিশমিশের হিসাবে জনপ্রতি ফিতরা প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা, পনিরে ২ হাজার ৬৫০ টাকা, খেজুরে ২ হাজার টাকা, যবে ৪৫০ টাকা এবং গম বা আটার হিসাবে প্রায় ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রুপার বাজারদরে অঞ্চলভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকার বাজারদর যাচাই করে জাকাত ও ফিতরা আদায় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি চলতি বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।

শেয়ার করুন: