
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে টহল কার্যক্রমে চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রথমবারের মতো কোনো সক্রিয় সংঘাতে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল ওয়াশিংটন।
জানা গেছে, এসব চালকবিহীন নৌযান কেবল নজরদারির কাজেই নয়, প্রয়োজন হলে আত্মঘাতী হামলার জন্যও ব্যবহারযোগ্য। এর আগে এ ধরনের ড্রোন বোট মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চালকবিহীন নৌবহর গড়ে তুলতে গিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে সেই বাধা অতিক্রম করে এখন প্রযুক্তিটি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে বিস্ফোরকবোঝাই স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরে আঘাত হানার পর এ ধরনের ড্রোন নৌযানের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধেও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সি ড্রোন’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এসব ড্রোন বোট ব্যবহার করে সরাসরি কোনো হামলা চালিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ নির্মিত এসব চালকবিহীন নৌযান ইরানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে টহল দিচ্ছে। ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনেসান্স ক্রাফট’ (জিএআরসি) নামে পরিচিত এ প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করে প্রায় ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।
তবে বর্তমানে ব্যবহৃত অন্যান্য ড্রোন ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একইভাবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।