যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে ‌‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘর্ষের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইরানযুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই কূটনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন শেহবাজ শরিফ। তার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম হয়। পরবর্তী ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ইসলামাবাদ-এ।

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি-এর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা ও চলমান সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতে একটি বড় ধরনের শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের জটিল ইস্যুগুলোর সমাধানের পথ খুলে দিতে সক্ষম।

তবে হোয়াইট হাউস এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটি জানিয়েছে, এই চুক্তি চূড়ান্ত শান্তির নিশ্চয়তা নয়; বরং এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ। চুক্তি লঙ্ঘিত হলে তারা পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে।

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবের সাধারণ কাঠামো মেনে নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন: