হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা, যুদ্ধবিরতির মাঝেই উত্তেজনা বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সামরিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েল-এর হামলা অব্যাহত থাকায় এই রুট পুরোপুরি নিরাপদ কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিনের শুরুতে দেখা যায়, জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে জাহাজ চলাচল সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননে আবারও হামলা জোরদার করে ইসরায়েল। এর প্রেক্ষিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

তবে পরবর্তীতে আল জাজিরা-এর খবরে জানানো হয়, প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং সম্ভাব্য সমুদ্র মাইন ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরজিসির বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

এখনও স্পষ্ট নয়, সত্যিই ওই এলাকায় সমুদ্র মাইন পাতা হয়েছে কিনা, নাকি এটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। তবে যদি বাস্তবেই মাইন পাতা থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন অবস্থায় জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় এলাকা ও হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে দীর্ঘ সময় সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাস বা এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন: