
ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জের কৃতী সন্তান ফরহাদ হোসেন। লেবার পার্টির মনোনয়নে লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে নজির স্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাজ্যজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়ে বিকেলে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল প্রকাশের পরপরই সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মির্জাকে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট, আর মোহাম্মদ মির্জা অর্জন করেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। এই বড় ব্যবধান স্থানীয় জনগণের কাছে ফরহাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরহাদ হোসেনের এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সামাজিক অবদান, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ফরহাদ হোসেন সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি স্থানীয় সেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বহুজাতিক সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফরহাদ হোসেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর (নূরপুর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জনাব জয়নাল আবেদীন (হরুফ মিয়া)-এর পুত্র। তার এই ঐতিহাসিক বিজয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনেকের মতে, ফরহাদ হোসেনের এ অর্জন প্রমাণ করেছে যে যোগ্যতা, নেতৃত্বগুণ এবং মানুষের আস্থা থাকলে বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেও বাংলাদেশিদের সফলভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।