
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, গ্রেড বৈষম্য কমানো এবং পেনশন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটির সদস্যরা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে সুবিধা বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।
পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এজন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব সরকারি চাকরিজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও আলাদা নির্দেশনা আসতে পারে।
গত সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।