প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে যৌথভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাকান ফিদান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই দায়িত্ব সফলভাবে পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় খলিলুর রহমান উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন বলে তুরস্কের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আগের মতোই সমর্থন দিয়ে যাবে তুরস্ক।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই অগ্রযাত্রায় তুরস্ক সন্তোষ প্রকাশ করছে।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।

হাকান ফিদান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এটি ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তুরস্ক। এই চুক্তি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই সংকটের টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করতে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আলোচনায় রাখতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে ঢাকায় পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

শেয়ার করুন: