
সমাজসেবামূলক সংগঠন আব্দুল আজিজ মাসুক ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের অসচ্ছল শাহীন আলমের পরিবারের কাছে নবনির্মিত পাকা ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের ঘোষিত ‘বর্ষায় নিরাপদ আশ্রয়’ কর্মসূচির প্রথম ধাপের আওতায় নির্মিত এ ঘরটি শনিবার (১৩ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের সহকারি ইমাম হাফিজ হাফিজুর রহমান ।
অনুষ্ঠানে দাতা ও উপকারভোগী পরিবারের কল্যাণ, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও শালিস ব্যক্তিত্ব মো. বাবরু মিয়া, বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. জিল্লুর রহমান জিলু, গৃহ নির্বাচন ও সরেজমিন তদন্ত টিমের প্রধান এবং বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সাংবাদিক শাহ মো. হেলাল, টিমের সদস্য সমাজকর্মী হাবিবুর রহমান, ব্যাংকার আব্দুল বাছিত, মুরব্বি ও যুবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তৌয়াজিদ আলী, সুরাব আলী, মর্তুজ আলী, আব্দুল জলিল মখন, রুহুল আমিন, সেজু মিয়া, শাহীন আলম, গহরপুর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক জামিল হোসেন নাহিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহীন আলম মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে তিনি আব্দুল আজিজ মাসুক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, সিলেট বিভাগ প্রবাসী পরিষদের সভাপতি, সিলেট পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাইরেক্টর এবং দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মানিত সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মাসুকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া ঘর নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সাংবাদিক শাহ মো. হেলালসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, শাহীন আলমের পরিবারের জন্য নির্মিত পাকা ঘরটির নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার ৭২৬ (দুই লক্ষ বিশ হাজার সাতশত ছাব্বিশ) টাকা ব্যয় হয়েছে। সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেছে আব্দুল আজিজ মাসুক ফাউন্ডেশন।
উল্লেখ্য, দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাসকারী অসচ্ছল, এতিম ও বিধবা পরিবারগুলোর জন্য আব্দুল আজিজ মাসুক ফাউন্ডেশন এ গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণ করে।
এ লক্ষ্যে সাংবাদিক শাহ মো. হেলাল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আবেদন আহ্বান করলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাতটি পরিবারের আবেদন জমা পড়ে।
পরবর্তীতে সাংবাদিক শাহ মো. হেলাল, সমাজকর্মী হাবিবুর রহমান ও আজমল হুসাইনকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত টিম আবেদনকারী পরিবারগুলোর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাই-বাছাই করেন। তদন্ত শেষে সবচেয়ে অসচ্ছল পাঁচটি পরিবারের একটি তালিকা প্রস্তুত করে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ আকারে প্রেরণ করা হয়।
ফাউন্ডেশন সূত্র আরও জানাগেছে, প্রথম ধাপে শাহীন আলমের ঘরের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সিরাজপুরের জাহাঙ্গীর আহমেদ, শিওরখালের সবির আলী, সুলতানপুর পশ্চিমপাড়ার দিলারা বেগম এবং চরআলাপুরের রোশনা বেগমের ঘর নির্মাণ কাজও অতি দ্রুত শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ যেন বর্ষার দুর্যোগপূর্ণ সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে বসবাস করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আব্দুল আজিজ মাসুক ফাউন্ডেশনের এ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও এমন মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।