
ছবি :সংগৃহীত
চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খুঁজতে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শের উদ্দেশ্যে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এ সফর করছেন।
তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগজি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রাথমিক সমঝোতা ঘোষণা হতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
আরাগজির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর ইরানের কৌশলগত অর্জনকে আরও সুসংহত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৪ দফার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত কাঠামোটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির জন্য বিস্তৃত আলোচনা চলবে।
দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ আলোচনা প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ যাতে পূর্বের মতো চুক্তি লঙ্ঘন করতে না পারে, সেজন্য কার্যকর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অবশ্যই পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং চাপ প্রয়োগের নীতি পরিহারের ভিত্তিতে হতে হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।