
তিন দিনের সফরে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন সার্জিও গর। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও জেনেভায় জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মুহাম্মদ সুফিউর রহমান মনে করেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার লক্ষ্যেই সার্জিও গরের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। সফর শেষে তাঁর মূল্যায়ন ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, বিশেষ দূত হিসেবে সার্জিও গরের প্রথম বাংলাদেশ সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন সার্জিও গর। নয়াদিল্লিকে কেন্দ্র করে তিনি ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে সার্জিও গরের এই দায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদার, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলকে আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও তাঁর নিয়োগকে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা।