
বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কলুমা গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম কর্তৃক সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সোমবার (৩ আগস্ট) সিলেট প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা মো. কনর মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে কনর মিয়া বলেন, তিনি কলুমা গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের পুত্র। তাঁর ছোট ভাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও কলুমা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আব্দুল গফুর একাডেমী অ্যান্ড হাই স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক লিটন আহমদ রফু। তিনি আরও বলেন, লিটন আহমদ রফু দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং দলমত নির্বিশেষে এলাকায় তার একটি স্বতন্ত্র গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পরিকল্পিতভাবে তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম ও তার সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। জায়গা-জমি এবং দোকানঘরের মালিকানা নিয়ে তারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কনর মিয়া আরও দাবি করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান নাজমুল আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামিম আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সালিশে তারা উপস্থিত হননি—এমন বক্তব্যও সঠিক নয়। বরং তাদের প্রতিপক্ষ ইলিয়াছ মিয়া গং সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম ফলপ্রসূ হয়নি।
তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে মারামারির যে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বিরোধসংক্রান্ত কোনো ঘটনার নয়। ভিডিওটি ভিন্ন একটি পক্ষের সঙ্গে পূর্বের একটি ঘটনার, যা স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে আগেই মীমাংসা হয়েছে। বর্তমান বিষয়ের সঙ্গে ওই ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কনর মিয়া জানান, বিলকিছ বেগম গং সংশ্লিষ্ট জায়গায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বালাগঞ্জ বিবিধ মামলা নং-২৩/২৬ দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জমি জাল-জালিয়াতির অভিযোগে ইলিয়াছ মিয়া গং-এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বালাগঞ্জ সি.আর. মামলা নং-৩০/২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, চলমান মামলাগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, রহিমা বেগম তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তাদের পরিবার মানহানির মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে কনর মিয়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।