
ছবি :সংগৃহীত
সিলেট বিভাগে একদিনে পৃথক তিন ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ৯ জনের। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেটে। আর হবিগঞ্জে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এক যুবক। সব মিলিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সিলেট বিভাগে দিনটি ছিল একাধিক মর্মান্তিক ঘটনায় ভারী।
ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের খাসিকাপন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।
নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের তিন বছর বয়সী মেয়ে ফাইজা, সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েক দফা ওভারটেকের চেষ্টা করে। পরে নিজ লেনে ফেরার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল স্লিপার কোচের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপও অব্যাহত রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট সদর ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নতুন দুই মৃত্যুর পর চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত আক্রান্ত মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৮৮। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৪ জন।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে সিলেট সদর উপজেলার ইয়ামিনের বয়স ছিল এক বছর পাঁচ মাস। অন্যজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আনিসা, যার বয়স আট মাস। দুজনই সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
এদিকে হবিগঞ্জ শহরতলীর উমেদনগর এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
আলমগীর মিয়া উমেদনগর পুরানহাটি এলাকার সামছুল হকের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সড়ক দুর্ঘটনা, হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সিলেট বিভাগজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।