বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে চায় গ্রিস

ছবি :সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের দেশ গ্রিস। একই সঙ্গে ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া শ্রম অভিবাসনবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়নের আশ্বাসও দিয়েছে দেশটি।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার ঠেকানো, বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-গ্রিসের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। সেখানে বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কম খরচে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী সমঝোতা স্মারকটি নবায়ন এবং বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তবে অনিয়মিতভাবে গ্রিসে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের দেশটিতে বৈধভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়া গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

গ্রিসে রেস্টুরেন্ট, কৃষি, পর্যটন ও নির্মাণ খাতে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। বৈধভাবে কর্মী যাওয়ার সুযোগ বাড়লে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে বাংলাদেশিদের গ্রিসে প্রবেশের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে দালালদের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।

২০২২ সালের সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গ্রিসে ৪ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি গ্রিসে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে বৈধতার আওতায় আনার সুযোগও ওই চুক্তিতে রাখা হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশে গ্রিসের নিজস্ব দূতাবাস না থাকা এবং ভিসা কার্যক্রম দিল্লিনির্ভর হওয়ায় চুক্তির বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এ ছাড়া দিল্লিতে সক্রিয় দালালচক্রের কারণে ভিসা প্রক্রিয়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন: