২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না যেসব ব্যক্তি

ছবি :সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। যারা আগামী বছর হজে যেতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সের শিশু এবং কিছু শারীরিক ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ২০২৭ সালের হজ পালনের সুযোগ পাবেন না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ পালনে আগ্রহী, সেই চূড়ান্ত সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে হজযাত্রী, হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে জানানো হয়, গত ২৭ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং তা ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।

যাদের হজে যাওয়ার সুযোগ নেই

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ২৭ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের হজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু হজে যেতে পারবে না। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের রোগ, লিভার ও কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

স্নায়বিক রোগ, গুরুতর মানসিক অসুস্থতা কিংবা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজ পালনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

এ ছাড়া ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট রোগী হজে যেতে পারবেন না।

জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ তালিকায় যক্ষ্মা (টিবি) ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো রোগ রয়েছে।

গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা নারী এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের হজ পালনের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। ফলে তারাও ২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে পারবেন না।

নিবন্ধনের সময় যেসব তথ্য প্রয়োজন

প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ ও টিকাদানের জন্য একটি জেলা নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে হজের ধরন এবং প্যাকেজও নির্ধারণ করতে হবে।

হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকা বাধ্যতামূলক।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের চূড়ান্ত সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

শেয়ার করুন: