ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা, বন্ধ থাকছে ৪০০ স্কুল

ছবি :সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রায় ৪০০টি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনটি প্রথমে রাজধানী প্যারিস অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন। শুক্রবার আরটিএল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্দোলনে সক্রিয় ও সহিংস একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

দারমানিন জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এখন জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাসে হামলা কিংবা স্কুলে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে সেটিকে আর শুধু বিক্ষোভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে জানান, শুক্রবার ৪০০টির কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

কট্টর বামপন্থিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংকট বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিক্ষোভের পেছনে কট্টর বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে লা ফ্রান্স ইনসুমিজ (এলএফআই)-এর সদস্যরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এলএফআইয়ের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিক্ষোভ শুরু করার সঙ্গে তাদের দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা অন্তত দুটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ে একটি স্কুলে শিক্ষকদের ওপর ভুলবশত পেট্রল ছিটকে পড়ে। পূর্বাঞ্চলীয় স্ত্রাসবুর্গে অন্তত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজ শহরেও তরুণদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি প্রতিবেশী বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও বৃহস্পতিবার কয়েকটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার লিয়েজের সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে শহর প্রশাসনের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

শেয়ার করুন: