বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: চাকরির বাজারে নতুন বাস্তবতা



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর কেবল প্রযুক্তির সীমায় নেই; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে শিক্ষা, অফিসের কাজ, এমনকি সৃজনশীল ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, কবিতা লেখা, রান্নার রেসিপি সাজানো কিংবা জটিল অঙ্ক সমাধান—সবকিছুই এখন সম্ভব হচ্ছে এআইয়ের মাধ্যমে।

শুধু ব্যক্তিগত কাজ নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমে এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে চাকরির বাজারে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পর্যন্ত, সর্বত্রই মানুষের কাজের বিকল্প হিসেবে জায়গা দখল করছে এআই। ফলে কর্মক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা—যেখানে অনেকের চাকরি ঝুঁকির মুখে, আবার কিছু নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনে চাকরি ও দক্ষতার ওপর এআইয়ের প্রভাব আরও গভীর হবে। বিশেষ করে সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন। কারণ, যদিও এআইয়ের তৈরি কনটেন্টে মৌলিকত্বের ঘাটতি আছে, তবু এটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের কাজকে প্রতিস্থাপন করছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে অফিস ক্লার্ক, রিসেপশনিস্ট, বুককিপার, সেলস ও মার্কেটিং কর্মী, বিজনেস অ্যানালিস্ট ও সিস্টেম অ্যানালিস্টদের চাকরির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে। এসব কাজের বড় অংশই এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

যেসব খাতে এআই মানুষের বিকল্প নয়

তবে সব পেশায় যে এআই মানুষের জায়গা নিতে পারবে, তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। যেমন—ক্লিনার, লন্ড্রি কর্মী, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও সেফটি, বিজনেস অ্যাডমিন ম্যানেজার, শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক, নির্মাণ ও খনি শ্রমিক এবং হসপিটালিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বরং বাড়বে। যেহেতু এসব কাজ মূলত হাতে-কলমে ও সরাসরি মানবিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তাই সেখানে এআই সহজে বিকল্প হতে পারবে না।

নতুন কর্মজীবীদের জন্য পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা কর্মজীবনে নতুন প্রবেশ করছেন, তাদের জন্য ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বুককিপিং, মার্কেটিং বা প্রোগ্রামিংয়ের পরিবর্তে নার্সিং, কনস্ট্রাকশন বা হসপিটালিটি খাতে ক্যারিয়ার গড়লে ভবিষ্যতে চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলক বেশি থাকবে।

ভয়েস আর্টিস্টদের সংকট

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভয়েস আর্টিস্টরাও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন। কারণ, কণ্ঠ রেকর্ডিংয়ের কাজও দ্রুত দখল করে নিচ্ছে এআই। এতে অন্তত ৮০ শতাংশ কাজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!