
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির সন্নিকটে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির দাফন সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে শনিবার সকাল থেকে নির্ধারিত স্থানে কবর খননের কাজ চলমান রয়েছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কবর খোঁড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং প্রক্টরিয়াল দলের সদস্যরা।
কবর খননের কাজে অংশ নেওয়া আল-আমিন নামের একজন শ্রমিক জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে তাঁদের এ কাজে ডেকে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বহু কবর খুঁড়লেও হাদির কবর খোঁড়ার কাজটি তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে হাদি সবার প্রতিই মমতাশীল ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ দুপুর দুইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এনে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়।
শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে সরকার আজ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।





