মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা



ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-৩। এই আসনটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির এলাকা হিসেবে আলোচনায় থাকে। সম্প্রতি তিনি ব্যক্তিগত সফরে এসে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট ও দোয়া চান। তবে নির্বাচনী মাঠে এবার ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর জন্য লড়াই সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক। মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তরুণ আলেম হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন। ফলে এই আসনে এম এ মালেক ও মাওলানা রাজুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।

জানা গেছে, শুরুতে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। তবে শেষ সময়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ের স্বার্থে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে কিছু অসন্তোষ থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জোটভুক্ত প্রায় সব দল তার পক্ষে মাঠে নামে। এতে দিন যত এগোচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণায় তার উপস্থিতিও তত দৃশ্যমান হচ্ছে।

এই আসনে আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ এবং খেলাফত মজলিসের মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সবাই মিলে মাওলানা রাজুকে সমর্থন দেন।

মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু দীর্ঘদিন সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও ছাত্রজীবনে ছাত্র মজলিসের নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ও আল-হাইয়্যাতুল উলয়ার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণ আলেম হিসেবে দেশজুড়ে তার পরিচিতি রয়েছে।

মাওলানা রাজুর পারিবারিক পরিচিতিও এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। তার বাবা প্রখ্যাত আলেম শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী কওমি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় নয় বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় তার আগে থেকেই ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!