
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ১৯.২৩ শতাংশ। একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৫৬টিতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে এবং এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বডিওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ১২১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ৮০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে আরও ৯টি আসনে। এগুলো হলো—শরীয়তপুর-২ (৯৭টি), লক্ষ্মীপুর-২ (৯৪টি), শরীয়তপুর-১ (৯৩টি), বরিশাল-৫ (৮৮টি), বগুড়া-৬ (৮৭টি), কিশোরগঞ্জ-২ (৮৫টি), ঠাকুরগাঁও-১ (৮৩টি), কিশোরগঞ্জ-১ (৮০টি) এবং কুড়িগ্রাম-৩ (৮০টি)।
শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, জেলার কেন্দ্রগুলোকে অতিগুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে এবং অন্যান্য কেন্দ্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে দুজন করে পুলিশ সদস্য রাখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কাছে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং প্রতিটি কেন্দ্র সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণত তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য, প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রধারী আনসার, একজন সাধারণ আনসার, ১০ জন লাঠিধারী আনসার এবং অন্তত একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রাম পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
নির্বাচন ঘিরে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপারেশনস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের লাইভ অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের কার্যক্রম রিয়েলটাইম পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ডিউটিতে থাকা সদস্যদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ওয়াকিটকি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র বা আশপাশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা মব সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় সমন্বিত কমান্ড সেন্টার থেকে লাইভ ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


