রবিবার, ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হাবীব নূহ

রামাদ্বান হিউমার—১



মুসলিম একজন স্কলার একটি আলোচনা সভায়,সামনে থাকা ওডিয়েন্সকে জিজ্ঞেস করলেন;
বলুন তো দেখি, “সেদিন কোন দিন যেদিন—কেউ কারো দিকে তাকানো তো দূরের কথা বরং একে অন্য থেকে পালাতে থাকবে।ভাই ভাই থেকে…”
শাইয়েখের কথা শেষ হবার আগেই অল্প বয়সী ছেলে ‘তালাত’ হাত উঠালো উত্তর দিতে।শাইয়েখ তাকে ইশারা করলেন উত্তর দিতে।
তালাত বল্ল:দিনটি হল “রামাদ্বানের দিন,আর সময়টা হল ঠিক ইফতারের মুহূর্ত!”

তালাতের উত্তর শুনে হলভর্তি ওডিয়েন্সের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।

সিগনিফিকেন্স:
শাইয়েখর প্রশ্ন ছিল ক্বিয়ামাত দিবস নিয়ে।যার বিভীষিকার নমুনা কুরআনুম মাজীদের ৮০ নাম্বার সূরার ৩৩ নাম্বার এবং তার অধস্তন আয়াত সমূহে চিত্রিত করা হয়েছে।কিন্তু পশ্চিমা ছেলে তালাত।তার মানসপটে অন্য কিছু।

বিশ-বাইশ ঘন্টা সাওম পালনের পর যখন ইফতার সজ্জিত টেবিলের পাশে অন্যান্য ভাই বোনদের সাথে বসে মাগরিবের ক্ষণগণনা শুরু করে তখন অবসন্ন দেহ,বিবর্ণ বদন,ক্ষুধিত জঠর এবং পিপাসার্ত টুঁটি নিয়ে কেউ কারো দিকে দৃকপাত না করে নির্লিপ্ত ভাবে স্বীয় অভিপ্রায় নিয়ে ব্যাপৃত থাকে।বিন্যস্ত ইফতারি অথচ স্বকীয় আত্মনিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলাবদ্ধ সবাই।সে সময়ের অদ্ভুত অনুভবের ভাবনা ‘তালাত’ অনায়াসে তুলে ধরেছে।ক্ষুদে তালাতের ক্ষুদ্র উত্তরের আবরণে সে দৃশ্য স্পষ্ট হয়েছে।

বর্ণিত দৃশ্যের অন্তরালে আরো নিগূঢ় দৃশ্যের দর্শন আছে।আর তা এ রকম: অবুঝদের কাছে হয়ত এ দৃশ্য নির্বোধ ও হাস্যকর।শয়তানের কাছে এ দৃশ্য জ্বালা ও বেদনার কিন্তু রাহমানের কাছে বান্দাদের এ ত্যাগের দৃশ্য বড্ড সুখের। এ ত্যাগে আশীর্বাদ আছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!