বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের জামালপুর পীরবাড়িতে
হযরত শাহ শহর উল্লাহ (রহ.), হাজী নূর মুহাম্মদ (রহ.) ও পীরজাদা শাহ সফিক উদ্দিন আহমদ (রহ.)-এর ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষে আয়োজিত হয় ১৮১তম বার্ষিক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে ।
বুধবার (২রা এপ্রিল) বেলা ২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই পবিত্র মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে হযরত মাওলানা ড. শাহ ছাফিউর রহমান জাদায়ে বালাউটি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন—ইসলামের মূল শিক্ষা হলো কলেমা, নামাজ, সঠিক আকিদা ও উত্তম চরিত্র। । সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
তিনি আরও বলেন—নবীজি (সা.) আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। আমরা যদি সাহাবায়ে কেরাম ও ওলি-আউলিয়াদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি, তাহলে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই সুন্দর হবে।
তাঁর নসিহতে উঠে আসে আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা, নামাজের গুরুত্ব, ইসলামের সঠিক আকিদা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ।
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—মাহফিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম। এখানে এসে আমরা যদি সত্যিকারের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি এবং নিজেদের জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই আমাদের আসা সার্থক হবে।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নসিহত পেশ করেন প্রবীণ আলেম হযরত মাওলানা আব্দুল মছব্বির (রাঙ্গাপুরী হুজুর)।
তিনি বক্তব্যে বলেন, অলি-আউলিয়ারা কেবল ইবাদত ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেননি, বরং তাঁরা ছিলেন হক্কানি, নির্ভীক ও আল্লাহভীরু। তাঁদের জীবনে ভয়ের কোনো স্থান ছিল না। তাঁরা কেবল আল্লাহকে ভয় করতেন এবং সত্যের পথে অটল থাকতেন। তিনি আরও বলেন—
আমাদের উচিত অলি-আউলিয়াদের জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করা এবং দুনিয়ার ভয় ত্যাগ করে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
হযরত মাওলানা আব্দুল হক রুহানী, কিশোরগঞ্জ তিনি নেক আমলের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—একটি ছোট আমলও যদি একাগ্রতা ও বিশুদ্ধ নিয়তের সাথে করা হয়, তবে আল্লাহ তায়ালা এর প্রতিদান দান করেন। আমাদের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—যে ব্যক্তি রমজানের রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পেয়ে যায়। আমাদের উচিত এই সুযোগ কাজে লাগানো এবং আল্লাহর রহমত অর্জন করা।
হযরত হাফিজ মুফতি জাকারিয়া জাবের, বালাগঞ্জ-তাঁর বক্তব্যে বলেন—আল্লাহর ওলি হওয়ার জন্য বড় বড় আমলই একমাত্র শর্ত নয়, বরং সঠিক নিয়ত ও সঠিক এজলাসের মাধ্যমে সামান্য আমলও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে যায়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে সাহাবায়ে কেরামের মহান ব্যক্তিত্ব ও ঈমানের দৃঢ়তা তুলে ধরে বলেন—বিশেষ করে হযরত বিলাল (রা.) নবীজি (সা.)-এর প্রতি যে ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন, তা আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর প্রতি অমানবিক নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি কখনও ঈমান থেকে বিচ্যুত হননি।
তিনি আরও বলেন—আমাদের উচিত সাহাবায়ে কেরামের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের চরিত্রকে শুদ্ধ করা এবং অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলা।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন পীরজাদা শাহ সালাহ উদ্দীন আহমদ। তরুণ সমাজকর্মী সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মাহফিলের শেষ পর্বে মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি হযরত মাওলানা ড. শাহ ছাফিউর রহমান।
মোনাজাত শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে তবারুক বিতরণ করা হয়।