রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারকে ঘরের চাবি হস্তান্তর: সেনাবাহিনীর নির্মাণে প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টার



২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ৩০০টি পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ঘর বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এই সময় প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখনই বন্যা শুরু হয়। প্রথমে বুঝতে পারিনি এই অঞ্চলে এমন ধরনের বন্যা হবে। সাধারণত যেসব এলাকায় বন্যা হয়, এবার সেটি একেবারেই ভিন্ন জায়গায় দেখা দেয়। কতটা ভয়াবহভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা ধারণা করা যায়নি। প্রথমে ভেবেছিলাম এটি তাড়াতাড়ি কেটে যাবে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, পরিস্থিতি ততই কঠিন হয়ে উঠেছে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “বন্যা বাড়তেই থাকল। সারাদেশ থেকে মানুষ ত্রাণ ও সাহায্যের জন্য ছুটে আসে। আমরা তখন বুঝতে পারি, এটি কত বড় বিপর্যয় ছিল। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তখন নানা রকম প্রস্তাব আসতে থাকে—বাড়ি নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদানের। তবে আমি অর্থ প্রদানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিই, কারণ এতে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া কঠিন হতো। যারা প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্য, তারা সেই সহায়তা নাও পেতে পারত।”

তিনি জানান, পরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এই ঘর নির্মাণের প্রস্তাব আসে। প্রথমে প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না থাকলেও সেনাবাহিনী এটি বাস্তবায়ন করবে জেনে তিনি আশ্বস্ত হন। “তখনই বুঝি, অর্থের সঠিক ব্যবহার হবে,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, “সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় বন্যা-আক্রান্তরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থের অর্ধেক ব্যয়েই কাজ শেষ করেছে সেনাবাহিনী—এর জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। খুব ভালো লেগেছে যে, ঘরগুলো শুধু নির্মিতই হয়নি, বরং মানসম্মতভাবেই নির্মিত হয়েছে। সাধারণত বরাদ্দের দ্বিগুণ অর্থ খরচের অভিযোগ শোনা যায়, কিন্তু এখানে বরাদ্দের অর্ধেকেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এটা একটি আনন্দের খবর।”

তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ সৎ ও সঠিকভাবে কাজ করার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যারা ঘর পেয়েছে, তারা যেন এবার সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে, সেই পরামর্শও আমি তাদের দিতে চাই।”

এইভাবেই বন্যার ক্ষত কাটিয়ে নতুন আশার আলো পেলো শত শত পরিবার।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!