
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ছয়টি আসনে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্থগিত প্রার্থীদের আগামী রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তিনি বলেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে, সেসব বিষয়ে পরদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আসনভিত্তিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হকের যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রমাণপত্র না থাকায় তার মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সিলেট-২ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন—নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও বিএনপি প্রার্থী লুনার ছেলে আবরার ইলিয়াস এবং আব্দুস শহীদ। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের মনোনয়নপত্র দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির কারণে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই আসনে এক শতাংশ ভোটারের তথ্য ও স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা ও মইনুল বাকরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেট-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সাঈদ আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাগজপত্রে অসঙ্গতির কারণে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাউফুদ্দিন খালেদের মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।
সিলেট-৬ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র এবং আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতির কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।



