ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি উত্তেজনা কমানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সিডনিতে বুধবার দেওয়া এক বক্তৃতায় কার্নি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, “কানাডা দ্রুত শত্রুতা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন যুদ্ধে জড়িত সকল পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং কানাডা এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।
গত শনিবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার কয়েক দিন আগে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চলছিল। হামলার পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার একটি মার্কিন কনস্যুলেট ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের দীর্ঘমেয়াদী মিত্র, সশস্ত্র শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছে খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে।
কার্নি মন্তব্য করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ইরানকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত না করে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই পদক্ষেপ নিয়েছে।”
কার্নি অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এ মন্তব্য করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মধ্যম শক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।
সিডনিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কানাডা বিশ্বকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করছে। আমরা কেবল প্রত্যাশিত বিশ্বের জন্য নিস্ক্রিয়ভাবে অপেক্ষা করছি না।



