বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ইরানের জনগণ কোনো ধরনের হুমকিতে ভীত নয়।

লারিজানি লিখেছেন, ‘ইরানের আশুরা অনুসারী জনগণ তোমাদের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না। তোমার চেয়েও শক্তিশালী অনেকেই ইরানি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। সাবধান—শেষ পর্যন্ত নিজেই মুছে যেতে পারো।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরান ও দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই–কে লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের হামলার তুলনায় ‘২০ গুণ বেশি শক্তিশালী’ আঘাত হানবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এমন হামলা চালানো হবে যাতে ইরানের পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও তাণ্ডব নেমে আসবে—যদিও আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি, যেন তা না ঘটে।’

এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই শান্তিতে থাকতে পারবেন না।

সম্প্রতি ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–র দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অতীতে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা–র রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাদের মতামত থাকা উচিত।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সংঘাত চলতে থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মিত্র দেশগুলোর কাছে অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ রপ্তানি হতে দেবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পাল্টা জবাবে ইরান বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!