মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের মোতায়েন, ইরান ইস্যুতে বাড়ছে উত্তেজনা



ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। সোমবার দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কেন্দ্র করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন বলে জানা গেছে।

এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। নতুন করে এই মোতায়েনের ফলে ভবিষ্যতে ইরানের ভেতরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম এলিট ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ইউনিট। প্যারাট্রুপার হিসেবে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর সদস্যরা আকাশপথে প্যারাশুটের মাধ্যমে শত্রু এলাকায় অবতরণ করে দ্রুত আক্রমণ চালাতে সক্ষম। অতীতে তারা আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছে।

নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনারা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনাও এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে ডিভিশনের সদর দপ্তরের সদস্য, লজিস্টিক ও সহায়ক ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম। যদিও এখনো ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাহিনী বিভিন্ন কৌশলগত কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বীপটি থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। তবে এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ সময় ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে।

আরেকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা হলো হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে শুরুতে বিমান ও নৌবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনে স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি “গ্রহণযোগ্য” সরকারব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় দেশটির তেলক্ষেত্র ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন সীমিত। তাছাড়া ট্রাম্প পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!