
ছবি: সংগৃহীত
ইরান একদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক আকাশযান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই দিনে অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ঘটনাটিকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান সক্ষমতার জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রদেশে পৃথক অভিযানে এসব প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, খোমেইন ও জানজান অঞ্চলের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়। এছাড়া ইসফাহানে দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বুশেহরে একটি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একই দিনে মধ্য ইরানে একটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়, যার পাইলট নিখোঁজ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট II (ওয়ার্থগ) যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে, যা পরে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
ইরান জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের আকাশসীমা আরও শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত করা হবে। দেশটির দাবি, সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এসব প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের কৌশল কেবল পাল্টা আক্রমণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আগ্রাসনকারীদের এমনভাবে জবাব দেওয়া যাতে ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহিত হয়। তার ভাষায়, “স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি দিয়ে আবার হামলা শুরু হোক—এমন পরিস্থিতি আমরা চাই না। আমাদের লক্ষ্য স্থায়ীভাবে হুমকি দূর করা।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে ইরান নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


