
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে।
সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়, ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করছে।
এই সংকট মোকাবিলায় আইইএ সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত জ্বালানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানান ফাতিহ বিরোল। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত তেলের মজুত থেকে সরবরাহ বাড়ানো হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়; বরং সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ফলে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বন্দর লক্ষ্যবস্তু করা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





