বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

টানা বৃষ্টি ও ঢলে বোরো ধানের বিপর্যয়, হাওরজুড়ে কৃষকের কান্না



হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও ময়মনসিংহের হাওরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেতেই তা সম্ভব হচ্ছে না। কাটা ধান শুকানোর সুযোগ না থাকায় পচনের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে বছরের একমাত্র ফসল হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগ-দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় এখনো পানি বাড়ছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে ইতোমধ্যে প্রায় ৮৯৭ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও হাজার হাজার হেক্টর জমি ডুবে গেছে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, যার ফলে এখনও কাটা হয়নি এমন ধান মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়েও দেশের বিভিন্ন জেলায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ধান নুয়ে পড়া, কাটা ধান ভেসে যাওয়া এবং শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য হারভেস্টার ও ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট, খারাপ আবহাওয়া ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আকস্মিক বন্যা দেশের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বোরো ধান থেকে দেশের মোট চালের বড় অংশ আসে, ফলে উৎপাদন কমে গেলে খাদ্য ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সার্বিকভাবে, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের কৃষিখাত বড় সংকটে পড়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!