চা বাগানে করম পরব
দীপংকর শীল
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সুবিধা বঞ্চিত জনবৈচিত্র্যপূর্ণ চা বাগানে শাস্ত্রীয় পূজা-পরবের বাইরে একমাত্র করমপরবই সবচেয়ে বেশি জনজাতির ধর্মীয় অনুষ্ঠান। উরাং, মুণ্ডা, ভূমিজ, সাঁওতাল, বাড়াইক, কুর্মী, মাহালি, রাজবংশী, কালিন্দি, মাল, মৃধা, রাউতিয়া, খাড়িয়া, গঞ্জু, শবর প্রভৃতি জাতি করমপরবের আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশের বাইরে ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ছত্তিসগড় এবং পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম প্রভৃতি জেলায় বসবাসকারী প্রায় আটত্রিশটি জনজাতির মধ্যে করমপরব উদযাপিত হয়। করম একজন কৃষিদেবতা।
“প্রাচীনকালে যখন কৃষিসভ্যতা বিকাশ লাভ করে, তখন চাষবাসই ছিল মানুষের একমাত্র করম বা কর্মা। করম অর্থ কর্ম করা। কর্মই সমৃদ্ধির মূল। আদিবাসী ও জনজাতির মানুষেরা মনে করত করম পূজার মাধ্যমেই দেবতা সন্তুষ্ট হন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ঝড়, অতিবৃষ্টি প্রভৃতিতে ফসল রক্ষা করেন। অধিক ফসল কামনায় এই পূজার প্রচলন।”১
অন্যান্য দেবতার মতো কৃষিদেবতা করমের কোনো মূর্তি নেই। করম নামক গাছের ডাল কেটে আখড়াতে স্থাপন করে পূজার্চনা করা হয়। ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে এ পূজা হয়। শস্য উৎপাদন ও রক্ষা, নিজ পরিবারবর্গ জ্ঞাতিগোষ্ঠী সকলের মঙ্গলের জন্য, অপশক্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তিকামনার জন্য এ পূজা করা হয়। করমগাছের অভাবে শালবৃক্ষের ডাল দিয়েও পূজা চলে। করম বৃক্ষের পরিচিতি সম্পর্কে উজ্জল মাহাতো তাঁর এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন―
“করম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Haldina Cordifolia। রুবিয়াসি পরিবারের হালদিনা গণের পত্রমোচী সপুষ্পক বৃক্ষ। এটিই এই গণের একমাত্র বৃক্ষ। এই গাছ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে। করম বৃহৎ পত্রঝরা বৃক্ষ। ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে। বীজ দ্বারা সাধারণত পাখির মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে।”২
করমপূজা উপলক্ষ্যে মুখে মুখে প্রচুর গান রচিত হয়। এসব গানের কথা লিখে রাখা হয় না। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ মুখে মুখে গান রচনা করেন। কিছু গান মুখে মুখে টিকে থাকে, কিছু হারিয়ে যায়। চা বাগানের উরাং সম্প্রদায়ের ‘কারাম পারাব’ বিষয়ক গানগুলোতে লক্ষ্ করা যায় প্রতি গানই দুই লাইনে রচিত। এই দুই লাইনই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে গাওয়া হয় এবং তালে তালে নাচা হয়। করমপূজার একটি আবাহনী সংগীত নিম্নরূপ-
আয় আয় করম রাজা আমাদেরি ঘরে।
তোমাকে পূজিব আমরা দুধ কলা দিয়ে ॥৩
করমডাল কেটে আনতে যাবার সময় বাদ্যযন্ত্র সহযোগে ভাইবোনের দল গান গেয়ে করমগাছের তলে উপস্থিত হয়। তারপর একজন ভাই করম রাজার স্তুতি করে ডাল কেটে ডালটি একজন বোনের হাতে দেয়। এই সময়ের একটি গানের গানের কথা-
‘করম ডাল কাটরে ভাইয়া
তোর হাতে শাঁখা চুড়ি জল খেলা।’৪
করম ডাল কাটার পর তা নিয়ে আখড়ায় উপস্থিত হলে কিছু সময় নাচ-গান হয়। করম ডাল স্থাপনের জন্য একজন ভাই গর্ত করে। তখন গান ধরা হয়—
গাঁথা খুঁড়রে ভাইয়া
তোর হাতে শাখা চুড়ি জল খেলা।৫
তারপর করম ডাল বেদিতে স্থাপন করা হয়। করম ডাল বেদিতে স্থাপনের সময় একটি গানের কথা:
“কোথায় ছিলিরে করম পাহাড়ে পর্বতে
এখন এলিরে করম দশেরি সমাজে।”৬
কুরুখভাষী উরাং (ওরাওঁ) সম্প্রদায়ের মধ্যে করম ডাল বেদিতে স্থাপনের পর করমপূজায় অভিজ্ঞজন বা মুহুরি নিজের মতো করে মন্ত্র উচ্চারণ করেন, “এরকে ইন্নাতি কারাম মান্নু গাড়াদান যাহাতে এঙ্গা এড়পানু নাগুত নাগুত চালর। ইসতেতি ভুল মা মান।৭ (দেখ! আজকে করমগাছ গেড়ে দিয়েছি যাতে আমার বাড়ি ভালোয় ভালোয় চলে। এখন থেকে আমি সবকিছু মানতেছি বুঝতেছি। আজ থেকে আর ভুল হবে না।) রংপুর জেলার মিটাপুকুরে ওরাওঁ সম্প্রদায়ের মধ্যে এই পর্যায়ের একটি গান প্রচলিত আছে। কুরুখ ভাষায় গানের কথাটি নিম্নরূপ:
“ভাগওয়ান বাবা ইসান বারা
ইসানুম র্বাই হালে।
ধুপান চিইঅন্ পুপান চিইঅন্
আম্মেন চিইঅন্।
হাতাজুরি আরজি নানন
বাহিজুরি বিনতি
নানন বাবা ভাগওয়ান বাবা
ইসানুম বাবা
ভাগওয়ান বাবা
এংহয়ে ভুলত্রুটি মাফ নানকে।”৮
অর্থাৎ, হে ভগবান এসো। এলে তোমার পদপ্রান্তে ধূপ, পুষ্প, পানি অর্পণ করবো। এখানে আগমনের জন্য করজোড়ে মিনতি করছি। হে ভগবান, আমার কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দিও। (জলিল: ২০০১)
স্থানভেদে করমপূজার কিছুটা রকমফের দেখা যায়। আলীনগর চা বাগানের একজন করমপূজারীর দেওয়া তথ্য মতে প্রথমে ছয়জন মহিলা গান গাইতে গাইতে নদীতে যায়। তাদের সাথে অন্যান্য সদস্যসহ গোষ্ঠী প্রধানও থাকেন। গোষ্ঠী প্রধানকে মুহুরি বলা হয়। বাড়ির প্রধান ব্যক্তি বা মুহুরি করমপূজা পরিচালনা করেন। মুহুরি নদীতে নেমে নিজস্ব পদ্ধতিতে পবিত্র চিত্তে পূজা করেন। তারপর নদীর পাড়ে উঠে একটা ঝুড়ির মধ্যে কিছু বালু তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আসার পর গোবর দিয়ে উঠানের মাঝখান লেপে পবিত্র করা হয়। লেপা জায়গায় ঝুড়ির বালু ঢেলে বালুতে হলুদ, ছোলা, মটর, মকই (ভুট্টা) মিশ্রণ করা হয়। তারপর করমপূজার গান গাওয়া হয়।
ধুন্দুর মুসা ধুন্দুর মুসা
জাওয়া না কাটিয়া হো
এঙ রাজা করম রাজা
করম রাজাক সেওয়া হো
জাওয়া যদি কাঁটবে মুসা
বড়শি আমায় জ্বালবে হো
হিঙ রাজা করম রাজার সেওয়া।৮
অর্থাৎ, ঝুড়িতে বপন করা শস্যবীজ থেকে অঙ্কুরোদ্গম হবে। ফসলের ক্ষতিকারক ইঁদুর বা কীটপতঙ্গ যাতে নতুন গজানো চারাকে কেটে নষ্ট না করে তার জন্য মিনতি করা হচ্ছে। সুস্থ-সুন্দর অঙ্কুরোদ্গমের ওপর করম সেবার সাফল্য নির্ভর করছে। যদি কোনো কারণে জাওয়া নষ্ট হয় তবে পূজারীর হৃদয় ধূপের মতো জ্বলবে। গানটি গাওয়ার সাথে সাথে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে। পরের ধাপে শুরু হয় করমপূজার গল্পের আসর। আসর তো নয় যেন লোকায়ত পাঠশালা। গল্পের নাম ‘কারমা ধারমা’। স্থানভেদে এই গল্পের বিভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হয়। তাই পুরো গল্পটি এখানে উপস্থাপন করা হলো:
কারমা ধারমা[১০]: কারমা-ধারমা সাত ভাই ছিল। তারা দেশে-বিদেশে বাণিজ্য করত। একদিন তারা ঠিক করল ভিন্ দেশে সওদা করতে যাবে। মালসামান কেনা হলো। উঠ-ঘোড়ার পিঠ বোঝাই করে সাত ভাই ভিন্ দেশে চলল। যেতে যেতে তাদের পিপাসা লাগল। পথের ধারে একটা বটগাছ ছিল। বটগাছের ছায়ায় তারা জিরাতে লাগল। তখন ভাদ্র মাস, খুব গরম। সামনে টিলার উপর ঘর দেখিয়ে ছোট ভাইকে পানি ও খাদ্য আনতে পাঠালো। ছোট ভাই সেখানে গিয়ে দেখে করমপূজার উৎসব হচ্ছে। সে নাচে গানে মজে গিয়ে পানি ও খাদ্য নিয়ে যাওয়ার কথা ভুলে গেল। বড় ভাইরা তার ফিরতে দেরি দেখে বিরক্ত হলো। ছয় নম্বর ভাইকে তারা পাঠালো। কিন্তু সেও করমপূজার নাচ-গানে মজে গেল। এভাবে ছোট থেকেশুরু করে পর্যায়ক্রমে একে একে ছয় ভাই উৎসব প্রাঙ্গণে গেল কিন্তু ফিরে এলো না।
এদিকে বড় ভাই গাছের নিচে একা বসে রইল। ক্ষুধা তৃষ্ণায় সে ধৈর্যহারা। কী করছে ওরা! এতক্ষণ লাগে নাকি! জিনিসপত্র অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখে যাবে কিনা তাও স্থির করতে পারছে না। এভাবে সাত পাঁচ ভেবে ওদেরকে খুঁজতে বের হলো। ওরা যে পথে গিয়েছিল সেও ঐ পথ ধরে এগুতে লাগল। কিছু দূর যাওয়ার পর ঢাক-ঢোলের বাজনা শুনতে পেল। ওরা হয়তো ওখানেই আছে। এই ভেবে উৎসব প্রাঙ্গণে গেল। গিয়ে দেখে উঠানের মাঝখানে কী একটা গাছের ডাল পোঁতা আছে আর সবাই নাচেগানে মগ্ন। ভাবছে সে, এত ফুর্তি তাদের এলো কোথা থেকে! আমি মরছি ক্ষুধা তৃষ্ণায় আর ওরা মজে আছে উৎসবে! হঠাৎ তার রাগ চরমে উঠল। ধারমা আর সইতে পারল না। এক টানে মাঠিতে পোঁতা গাছের ডালটি উপড়ে নিয়ে ছুড়ল আকাশের দিকে। ওটা সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে গিয়ে পড়ল। উৎসব স্থলে হুলস্থূল কাণ্ড বেঁধে গেল। কোনো রকমে ধারমা পালাল সেখান থেকে― যেখানে তার উঠ ঘোড়া মালসামান রাখা ছিল। কিন্তু হায়! কোথায় তার জিনিসপত্র! কোথাও কিচ্ছুটি নেই। সব উধাও হয়ে গেছে। আশেপাশে খুঁজল, পেল না কিছুই। এখন কী করে ধারমা! বাড়ির পথে রওয়ানা দিল। পৌঁছে দেখে শুধু ভিটে-মাটি পড়ে আছে, ঘরদোর কিচ্ছু নেই, গরুবাছুর, গাছগাছালি এসব গেল কোথায়? হতবাক হয়ে অসহায় ধারমা ঘুরতে লাগল। একসময় এক মুরুব্বির দেখা পেল। জিগ্যেস করল তার বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পদ কেন হারিয়ে গেল। মুরুব্বি বলে, ‘তিন মুড়িয়ার কাছে যাও।’ সে হাঁটতে হাঁটতে তিন মুড়িয়ার কাছে গেল। জিগ্যেস করল, ‘আমার এত এত ধনসম্পদ, মানুষ ছিল কিন্তু এখন কিচ্ছু খুঁজে পাচ্ছি না কেন?’ তিন মুড়িয়া বলল,
‘তোমার করম কপাল বিঁধু ভাও
করম রাজার দেশে যাও।’
ধারমা ছুটলো করম রাজার দেশে। অনেক দূর যাওয়ার পর চারপাশের সবকিছুকে তার অচেনা মনে হলো। ভাবল হয়তো অন্য কোনো দেশে পৌঁছে গেছে। রাস্তার পাশে দেখে একটা বরইগাছে বরই পেকে পেকে লাল হয়ে আছে। তখন ভাবল কিছু বরই খাওয়া যাক। বরই পেড়ে দেখে বরইর ভিতর পোকায় ভরা। বিরক্তিভাবে বরইগাছের দিকে তাকায়। বরইগাছ বলে, ‘তুমি কোথায় যাবে ধারমা?’
‘আমার কপাল বিঁধু ভাই
করম রাজার দেশে যাই।’
বরইগাছ বলল, ‘ধারমাকে ভাই, আমার গাছে বরই পেকে লাল হয়ে আছে, পোকায় খায়, দুর্ভাগ্য আমার, মানুষ খেতে পারে না। কেন? করম রাজার কাছ থেকে এর কারণ জেনে আসবা।’ ‘আইচ্ছা’― বলে ধারমা।
আবার হাঁটা শুরু করল ধারমা। যেতে যেতে আরেক দেশে গেল। দেখে মাঠে অনেক গাভী চরছে। তখন সে ভাবল এই গ্রামে গেলে গাভীর দুধ খাওয়া যাবে। সে গাভীর মালিকের কাছে গেল। গাভীর মালিককে বলল, ‘আমি কি তোমার গাভীর দুধ খেতে পারি?’ মালিক দুধ দোয়ানি ও রশি দিয়ে বলল, ‘দোহন করে খাও।’ ধারমা গাভীর কাছে গেল। গাভীকে ধরলে বাছুর পালায়, বাছুরকে ধরলে গাভী পালায়। অনেক চেষ্টা করেও দোয়াতে পারল না। করম কপাল বিঁধু ভাও। গাভীর মালিক বলে, ‘ভাই, তুমি কোথায় যাবে?’ ধারমা দুঃখীভাবে বলে, ‘ভাই, আমার করম কপাল বিঁধু ভাও, করম রাজার দেশে যাব।’ গাভীর মালিক বলে, ‘ভাই, করম রাজার কাছ থেকে জেনে আসবে আমার কপাল মন্দ কেন? আমি গাভী দোয়াতে পারি না কেন?’
ধারমা আবার যেতে লাগল। যেতে যেতে আরেক দেশে পৌঁছল। দেখতে পেল একটা পুকুর। পুকুরের পানি খুব পরিষ্কার। খুব ক্লান্ত সে, শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। ভাবল― হাত মুখ ধুয়ে পানি খেয়ে পেট ভরবে। কিন্তু হায়! যেই না আজলা ভরে পানি তুলবে― অমনি দেখে পানিতে পোকায় কিলবিল করছে। এই পানি ফেলে আবার পানি তুলল। দেখল পোকা। পানি খাওয়া হলো না। ধারমা বলল, হায়রে ‘করম কপাল বিঁধু ভাও।’ পুকুর বলে, ‘ধারমা, তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ ধারমা বলে, ‘আমি যাচ্ছি করম রাজার দেশে।’ পুকুর বলল, ‘আমার কুশল মঙ্গল জেনে আসবে। আমার এত সুন্দর পানি, পশু-পাখি কেউ খেতে পারে না।’
পুকুরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। গেল আরেক দেশে। সেখানে দেখল এক মহিলার জিভে একখানা পিড়া আটকে আছে। মহিলা বলল, ‘কোথায় যাও?’ ধারমা বলল,
‘করম কপাল বিঁধু ভাও,
আমি যাচ্ছি করম রাজার দেশে।’
মহিলা বলল, ‘ধারমাকে ভাই, করম রাজাকে জিগ্যেস কোরো আমার জিভ থেকে এই পিড়াখানা কেন ছুটে না। আমি বড় কষ্টে আছি। যাবার সময় আমার কুশল-মঙ্গল জানিয়ে যেয়ো।’
আরও কিছুদূর যাওয়ার পর এক চিড়াওয়ালাকে পেল। ধারমা চিড়াওয়ালাকে বলল, ‘ভাই, আমাকে কিছু চিড়া খেতে দাও।’ চিড়াওয়ালা বলল, ‘এই নাও উখইল মুশড়া, নিজে কুটে খাও।’ তখন নিতে গিয়ে দেখে লোকটার হাতে মুশড়াটা লটকে আছে। এর কারণ জানতে চাইলে লোকটি বলল জানে না। তারপর বলল যে তুমিতো করম রাজার দেশে যাচ্ছ, আমার অবস্থাটা জেনে আসবে। কী করলে আমি এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব।’
ধারমা আবার যেতে লাগল। এবার পেল একটা বড় নদী। নদীতে দেখতে পেল একটা কচ্ছপ ভেসে আছে। ধারমা কচ্ছপকে বলল, ‘করম কপাল বিঁধু ভাও। আমি যাব করম রাজার দেশে। তোমার পিঠে করে আমাকে নদী পার করে দাও।’ কচ্ছপ ধারমাকে তার পিঠে তুলে মাঝ নদীতে নিয়ে বলে, ‘করম রাজাকে আমার কষ্টের কথা বলো, আমি ডুবতে পারি না, সারাক্ষণ ভেসে থাকি। আমার পরিত্রাণের উপায় জেনে আসবে তো? ধারমা বলল, ‘হ্যাঁ, তোমার খবর জেনে আসব। এবার পার করে দাও।’ কচ্ছপ নদী পার করে দিল।
এবার ধারমা পথিমধ্যে আরেকটা নদী পেল। দেখল নদীর মাঝখান দিয়ে একটা করম ডাল ভেসে যাচ্ছে। এটা সেই ডাল যেটা রাগ করে উপড়ে ফেলে দিয়েছিল। ধারমা ডালটা ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু যেই না ডালটি ধরতে যায়, ওটা সরে সরে যায়। চেষ্টা করে, সরে যায়, এরকম বারবার চেষ্টা করতে লাগল; কিন্তু ধরতে পারে না। শেষে তার মনে জেদ ধরে গেল। আজ সে মরবে তবুও ওটাকে না ধরে ছাড়বে না। চিৎকার দিয়ে বলে, ‘ওহে করম ডাল, তোমার জন্য আমি সব হারিয়েছি, অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, আজ আমি তোমাকে না ধরে ছাড়ব না। মরতেও আমি প্রস্তুত। করম রাজা দেখলেন যে তার যথেষ্ট শাস্তি হয়েছে। তাই ধীরে ধীরে ডালটি স্রোতে ভেসে নদীর তীরে ভিড়ে গেল। ধারমা ধরতে গেল, করম ডাল আবার সরে গেল আর ধারমা শুনতে পেল, ‘তুমি পাপী, অপবিত্র― আমাকে ছুঁবে না।’ তখন ধারমা বলল, ‘আমি না জেনে পাপ করে ফেলেছি, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আর পাপ করব না। তোমাকে আমি দেশে নিয়ে যাব।’ সে কাতর হয়ে বসে পড়ল। তখন করম রাজা বললেন, ‘ঠিক আছে, তোমার সাথে আমি যাব। তবে বাঁশ কেটে ডালা বানাতে হবে। পাঁচ, সাত, নয় জন কুমারী মেয়েকে নিয়ে নালা থেকে ডালাতে বালি তুলবে। তাতে ছোলা, মটর, মকই দিয়ে করমপূজা করবে।’ ধারমা রাজি হলো। তার চোখে পানি দেখা গেল। বলল, ‘দোহাই করমরাজা, তুমি আমার মাথায় থাক।’ তখন ধারমা করম রাজাকে তার মাথায় তুলে নিয়ে নিল। আসার পথে সকল দুঃখীর কুশল মঙ্গল জেনে নিল।
বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রথমেই নদীর ঘাটে কচ্ছপকে পেল। কচ্ছপ বলল, ‘ধার্মাকে ভাই আমার কুশল এনেছ কি?’ ধারমা বলল, ‘এনেছি, আগে নদী পার করে দাও।’ কচ্ছপ ভাবছে ওপারে গিয়ে যদি না বলে। এদিকে ধারমা ভাবছে এখনি কচ্ছপকে বলে দিলে সে ডুবে যাবে আর আমি পার হতে পারব না। ধারমা কচ্ছপের কাছে সত্যে আবদ্ধ হলো। কচ্ছপ তাকে নদী পার করে দিল। কচ্ছপকে জানাল যে রাজা-বাদশার মেয়েরা তাদের সোনা রূপা খুলে নদীতে স্নান করার সময় সে সোনা-রূপা খেয়ে ফেলেছিল। তাই স্নানরতা পবিত্র মেয়েরা তাকে অভিসম্পাত করেছিল বলে তার এমন দশা। এখন পরিত্রাণের উপায় হিসেবে সে যদি সোনা-রূপা সাধু-বৈষ্ণবকে দান করে দেয় তাহলে অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। কচ্ছপ এ কথা শুনে বলল, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই তো সাধু পুরুষ। এগুলো তোমাকেই দান করে দিলাম।’ কচ্ছপ অভিশাপমুক্ত হলো।
যাওয়ার পথে চিড়াওয়ালার সাথে দেখা হলো। চিড়াওয়ালা বলল, ‘আমার কুশল-মঙ্গল কী?’ ধারমা বলল, ‘তুমি সাধু-বৈষ্ণবকে দান-দক্ষিণা কর না। দান করলে তোমার হাতের মুশল আর গাইল ছুটে যাবে।’ চিড়াওয়ালা বলল, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই আমার সাধু-বৈষ্ণব। এই নাও― তোমাকেই আমি দান করলাম।’ চিড়াওয়ালা অভিশাপ থেকে মুক্ত হলো।
এভাবে যে মহিলার জিভে পিড়া লটকে ছিল তার সাথে দেখা হলো। মহিলাকে বলল, ‘তুমি ছোট-বড়কে সম্মান করো না। শ্বশুর-শাশুড়িকে মান্য করো না। খারাপ কথা বলো। এজন্য তোমার জিভে পিড়া লটকে আছে। যদি তুমি ভালো হয়ে চলো, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করো, সাধু-বৈষ্ণবদের দান করো, তবে তোমার জিভ থেকে পিড়া খুলে যাবে।’ মহিলা বলে, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই আমার সাধু-বৈষ্ণব। এই নাও― তোমাকেই দান করলাম।’ মহিলা অভিশাপ থেকে মুক্ত হলো।
পুকুর ধারমার অপেক্ষা করছিল। জিগ্যেস করল, ‘তুমি আমার কী সংবাদ এনেছ?’ ধারমা জানাল, ‘তুমি মানুষকে ঘৃণা করো। সেজন্যই তোমার স্বচ্ছ পানিতে পোকায় কিলবিল করছে। তুমি যদি মানুষকে ভালোবাসো আর সাধু-বৈষ্ণবকে দান-দক্ষিণা করো তাহলে তোমার পরিষ্কার পানিতে পোকা থাকবে না। পুকুর বলল, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই আমার সাধু-বৈষ্ণব। এই নাও― তোমাকেই আমি দান করলাম।’ পুকুর মুক্তি পেল।
এবার ধারমা গাভীর মালিকের দেখা পেল। গাভীর মালিক তার খবর জানতে চাইল। ধারমা বলল, ‘তুমি মানুষকে দান-দক্ষিণা করো না। তাই তোমার গাই ধরলে বাছুর পালায়, বাছুর ধরলে গাই পালায়। যদি সাধু-বৈষ্ণবদের দান-দক্ষিণা করো তাহলে তোমার কোনো দুঃখ থাকবে না।’ গাভীর মালিক বলল, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই আমার সাধু-বৈষ্ণব। এই নাও― তোমাকেই আমি দান করলাম।’ গাভীর মালিক গাভী দোহাতে পেরে সুখী হলো।
শেষমেষ ধারমা বরইগাছের দেখা পেল। বরইগাছ বলল, ‘ধারমা, আমার কী খবর এনেছ?’ ধারমা বলল, ‘তোমার গাছে অনেক বরই ধরে। তুমি কাউকে খেতে দিতে না। তাইতো তোমার বরইয়ে এত পোকা। তুমি যদি সাধু-বৈষ্ণবদের দান করো তাহলে তোমার বরইয়ে পোকা থাকবে না। বরইগাছ বলল, ‘কোথায় পাব সাধু-বৈষ্ণব? তুমিই আমার সাধু-বৈষ্ণব। এই নাও― তোমাকেই আমি দান করলাম।’ ধরামা এবার নিজের দেশে পৌঁছে গেল। করমরাজার কথা মতো করমপূজা করল। পাঁচদিন ধরে নাচ-গান চলল, অনেক ফুর্তি-আমোদ হলো। পূজা শেষে করমরাজাকে নদীতে বিসর্জন দিল।
‘আজরে করমরাজা ঘরে দুয়ারে
কাল রে করম রাজা সাত নদীর ওপারে।’
গল্পটি এখানেই শেষ। গল্পকথকের কাছ থেকে গল্প শুনে সাদরি ভাষায় লেখা হয়েছিল। বাংলায় অনুবাদ করার সময় ভাষার মূল রূপ ঠিক থাকেনি। গল্পে দেখা যায়, ‘দুঃখ দিয়া সুখ দিলে তবে পূজা পাই’১১- উক্তিটির সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে। পাশাপাশি অনেক নীতিকথাও বর্ণিত হয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলে করমপূজার গল্পের সাথে এর কিছুটা তফাৎ রয়েছে।
ব্রতকথা শুনানোর পর শুরু হয় নৃত্য-গীত, খাবার-দাবার। কুড়মালি ভাষায় এই পর্বের একটি ঝুমুর গান নিম্নরূপ:
চাঁলা দেওরা ঝুঁমেরি খেলাইল
আধা রাইত খেলেইলি
পাহারা রাইত খেলেইলি
চাঁলা দেওরা এখান ঘাঁরা ঘুঁইর যাই
ঘারে রেহে দুধে বালাকুয়া।১২
গানের প্রথমে ঝুমুর গানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে। অতঃপর সারা রাত নৃত্য-গীত করতে করতে ভোর হয়ে হয়ে এসেছে। কেরমেতির দুধের বাচ্চা ঘরে রেখে এসেছে। এখন ঘরে যাওয়ার পালা।
পূজা শেষ হলে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর মতো শোভাযাত্রার মাধ্যমে করমডাল বিসর্জন দেওয়া হয়। কুড়মালি ভাষায় এই পর্বের গানের কথায় আছে, যাও কারাম গোঁসাই কাঁশ নদীর পারে। পরের ভাদ্র মাসে তোমাকে আবার ফিরিয়ে আনব। আমাদের আশীর্বাদ দিয়ো। গানের কথাটি নিম্নরূপ:
জাওয়া জাওয়া কারাম গাঁসা
কাস নেঁদী পার
ঘুঁরি ভাদার মাসে
আঁনবোও ঘুঁরাইকে
দিঁহে দিঁহে কারাম গাঁসা দিঁহে আঁশীষ।১৩
গানে করমপূজারীদের প্রতি করমের আশীর্বাদ ধ্বনিত হলো, তোমাদের বাবা-ভাই যেন লক্ষ বছর বাঁচেন।
দেঁলিও গেঁ কারমেতি দেঁলিও গে আঁশীষ
তঁহর বাপ ভাই যাঁতে বাঁচেও লাখে বাশিষ।১৪
বিসর্জনের সময় পূজারীবৃন্দের হৃদয় বিচ্ছেদ বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। কুরুখ ভাষায় বিসর্জনের একটি গান নিম্নরূপ:
“এলুনা রাইজাকা কারাম
জোখার পেল্লারিন্
কারারিজা বাইজকি
ইন্নাগা কালিয় কারাম
সাত সামুদার গাঙ্গানুপারে কালয়।”১৫
অর্থাৎ, হে কারাম! এতদিন তোমার আরাধনা উপলক্ষ্যে নারী-পুরুষ সবাই আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল। আজ তোমাকে গঙ্গা বেয়ে সাত সমুদ্রে বিলীন হয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা তাই বিষাদ-ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছি। (জলিল : ২০০১)
গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু করমপূজার অনুষ্ঠান ও কৃত্যগুলো লক্ষ্য করে বলেছেন এটি প্রাগবৈদিক যুগের কোনো কোমের বৃক্ষপূজা ও উর্বরাশক্তির উপাসনার নিদর্শন। বর্তমানে এর উৎসব মাঠ থেকে আউস ধান ঘরে আনার আনন্দ প্রকাশ ও কৃষিদেবতা করমের প্রতি কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন।১৬
পৃথিবীতে মানুষ আবির্ভূত হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছে জীবন ধারণের সমস্ত উপকরণ প্রকৃতি থেকেই আসে। আদিকালে বনজঙ্গলে বসবাস করার সময় মানুষ গাছগাছালির উপকারিতা ও গুণাগুণ লক্ষ্য করেছে। যেসব গাছগাছালি থেকে মানুষ বেশি উপকৃত হয়েছে সেগুলোকে সযত্নে লালন করেছে। কৃতজ্ঞতাবশত মানুষ কোনো কোনো গাছকে দেবতার আসনে বসিয়ে পূজা করেছে। ধান, দূর্বা, তুলসী, বেল, কুল, শাল, অশ্বত্থ, বট, পলাশ, শেওড়া, ঘেঁটু, আমলকী, নিম, বাঁশ, খেজুর, কদম, কলা, করম প্রভৃতি বৃক্ষের সাথে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের যোগসূত্র কারো অজানা নয়। প্রাচীনযুগে প্রাকৃতিক সম্পদের কোনো ক্ষতি করাকে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ তথা পৌরাণিক সাহিত্যে প্রকৃতি বন্দনার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। অথর্ববেদের পৃথিবীসূক্তে প্রয়োজনে কোনো বৃক্ষ কর্তন করা হলে সাথে সাথে একটি বৃক্ষ রোপন করে প্রকৃতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বলা হয়েছে।১৭ বৃক্ষপূজার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষা দেওয়ার ভাবনা ক্রিয়াশীল। পশ্চিমবঙ্গের গবেষক তাপস পাল পূজিত বৃক্ষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখিছেন যে সুন্দরবন থেকে গড়বেতা, জঙ্গলমহল থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত ভারতের লোকেরা মোট একহাজার সাতশ একানব্বইটি বৃক্ষের পূজা করে।১৮ এই তালিকায় করমবৃক্ষও আছে। পূজিত বৃক্ষের ক্ষতি কেউ করে না। মানুষ তার আরাধ্য বৃক্ষ লালন-পালন করে যা প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক। অস্ট্রিকভাষী আদি-অস্ট্রেলিয়রা বৃক্ষপূজা করত। তাদের মানস সংস্কৃতির অনেক কিছ্ইু বর্তমান জীবনধারায় বহমান। করমপূজা তারই নিদর্শন। বৃক্ষপূজার আধ্যাত্মিকতা বাদ দিলেও পৃথিবীর সুস্থতার জন্য, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষের যত্ন করা, বৃক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা অপরিহার্য। করমপূজা লোকায়ত মানস সংস্কৃতির অংশ। এই পূজায় স্বর্গপ্রাপ্তির কোনো বাসনা নেই। জাগতিক মঙ্গল কামনাই প্রধান লক্ষ্য। করমপরবকে কেন্দ্র করে আবহমান কাল ধরে যে সংস্কৃতির চর্চা হয়ে আসছে তাতে সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগ্রত রেখেছে, আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে লোকশিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তথ্যনির্দেশ ও টীকা
১. রাজীব মাল, বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের আরণ্যক ও কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসব করমপরব। (www.srishtisandhan.com)
২. উজ্জ্বল মাহাতো, আদিবাসী সংস্কৃতিতে করম বৃক্ষ, সমকাল, প্রকাশ ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
৩. প্রচলিত লোকগান
৪. মিঠুন উরাং, ঠিকানা- হালকিটিলা, মির্তিঙ্গা চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
৫. অঞ্জলি উরাং, বয়স : ৬০ বছর, ঠিকানা- হালকি, মির্তিঙ্গা চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
৬. আবু উরাং, ঠিকানা- ঝিমাই চা বাগান, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।
৭. বাছিরাম মিনজি, ঠিকানা- দেওড়াছড়া চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
৮. বিগল সিং, পিতা- চারোয়া সিং, ঠিকানা- গ্রাম- বৈরাতী, থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর। (ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল এর ‘উত্তরবঙ্গের আদিবাসী লোকজীবন ও লোকসাহিত্য : ওরাওঁ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত, বিশ্বসাহিত্য ভবন, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, প্রকাশকাল: মে ২০০১, পৃ. ৭৬।)
৯. বন্যা উরাং, ঠিকানা- সুনছড়া চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
১০. কারমা ধারমা মূল গল্পটি সাদরি ভাষায় বলেছিলেন চুনুবাস বাড়াইক, পিতা: ধনুলাল বাড়াইক, বয়স: ৮০, ঠিকানা- হালকিটিলা, মির্তিঙ্গা চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং রতন উরাং, পিতা: নিমাই উরাং, বয়স: ৬৫, হালকিটিলা, মির্তিঙ্গা চা বাগান, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার। সাধনা বাড়াইক ও মিটুন উরাং এর সহযোগিতায় বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।
১১. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা সম্পাদিত, ষ্টুডেণ্ট ওয়েজ, বাংলাবাজার ঢাকা, সপ্তম সংস্করণ, ১৪১৪ বঙ্গাব্দ, পৃ.২২।
১২. উজ্জল মাহাতো, কারাম, রূপম প্রকাশনী, নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোড, পাবনা, ২০১৩, পৃ. ৭২।
১৩. প্রাগুক্ত পৃ. ৭৭।
১৪. প্রাগুক্ত
১৫. যোয়াকিম খালকো: ওরাওঁ আদিবাসী রীতি-নীতির ক্যাথলিক রূপায়ণ, পৃ. ২০ (ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল এর ‘উত্তরবঙ্গের আদিবাসী লোকজীবন ও লোকসাহিত্য : ওরাওঁ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত, বিশ্বসাহিত্য ভবন, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০, প্রকাশকাল: মে ২০০১, পৃ. ৭৮।
১৬. গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু, বাংলার লৌকিক দেবতা, দে’জ পাবলিশিং, কলিকাতা, ১৯৬৬, পৃ. ১৬১।
১৭. যৎ তে ভূমে বিখনামি ক্ষিপ্রং তদপি রোহতু- অথর্ববেদ, পৃথিবীসূক্ত, ১২/১/৩৫
১৮. শিবলী আহমেদ, বৃক্ষপূজা, ১ জানুয়ারি ২০২১, (www.canvasmagazine.com)
লেখক: প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, কমলগঞ্জ সরকারি গণমহাবিদ্যালয়, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।



